Published : 20 Mar 2026, 10:25 PM
ঈদের আগ মুহূর্তে ঢাকার কাঁচা বাজারগুলোতে সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
এর মধ্যে খোলা চালের কেজি সপ্তাহের ব্যবধানে গড়ে ১০ টাকা বেড়ে ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের দাম পড়ছে ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।
ঈদের বাজারে বাসমতি চালের দাম ও বিক্রি বেড়ে গেছে। বিদেশ থেকে আসা এ সুগন্ধি চালের কেজি পড়ছে ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
পাকিস্তানি বাসমতি চালের দাম বেশি পড়ে; বাদামতলীতে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও পাকিস্তানি খোলা বাসমতি চালের কেজি ছিল ৪০০ টাকা।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার ও মহাখালী বাজার ঘুরে সুগন্ধি চালের দরদামে এই হেরফের পাওয়া গেছে।
যাত্রবাড়ীর হামিদ স্টোরের মালিক মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘খোলা পোলাওয়ের চালের কেজি ১৫০ টাকা। দুই দিন আগেও ১৪০ টাকা বেচছি।’’
একইভাবে কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন কোম্পানির চালের প্যাকেট ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ থেকে ১৭৫ টাকায় উঠেছে।
কোনো কোনো কোম্পানির চাল এতদিন গায়ের দামের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সেই ছাড়ও মিলছে না।

একটি কোম্পানির কথা তুলে ধরে মহাখালী বাজারের মাহমুদা জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা হানিফ মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘গায়ের রেট ১৭৫ টাকা। এখন কোনো ছাড় নাই। খোলাটা ১৬০ টাকা।’’
অন্যদিকে কাপ্তান বাজারের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন, প্যাকেটের চেয়ে খোলা চাল বিক্রি হয় বেশি।
ঢাকার বাজারগুলোতে পোলাওয়ের চাল বেশির ভাগ বস্তায় বিক্রি হয়। সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী পাড়া-মহল্লার দোকানগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি করে থাকেন।
মহাখালী বাজার থেকে তিন কেজি সুগন্ধি চাল কেনা মহসিন উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘পোলাও চাল ছাড়া মেহমান আপ্যায়ন করা যায় না; এটা চল হয়ে গেছে। অনেকে পোলাও খায় না, তারপরও পাতে দিতে হয়।’’

বাদামতলীর বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম রাজু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘পাকিস্তানি বাসমতির চাহিদা বেশি। ভালো মানের এক কেজি বাসমতির দাম ৪৬৫ থেকে ৪৭৫ টাকা।’’
বাসমতি চাল দেশে আবাদ না হওয়ায় চাহিদার পুরোটাই আমদানি করতে হয়। ভারত থেকে আসা বাসমতি চালের দাম শুরু ২০০ টাকা থেকে।
গরুর মাংসের কেজি ৮৫০ টাকাও পড়ছে
ঈদের আগে চাহিদা বাড়ায় ঢাকার অনেক বাজারে গরুর মাংসের দাম বেড়ে গেছে।
শান্তিনগরে গত বৃহস্পতিবার এক কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় ৮৫০ টাকায়, যা আগের দিনও ৮০০ টাকায় পাওয়া গেছে।
তবে শুক্রবার যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার ও মহাখালীতে গরুর মাংসের কেজি ছিল ৮০০ টাকা।
এবার অবশ্য রোজার শুরুতে ৫০ টাকা কেজিপ্রতি বেড়ে ঢাকায় গরুর মাংসের দাম ঠেকে ৮০০ টাকায়। রমজান মাস প্রায় শেষ হলেও ৭৫০ টাকায় আর নামেনি।
মাংস ঝুলিয়ে ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণে মহাখালী বাজারের বিক্রেতা হাবিবুর রহমান হাঁকডাক দিয়েই যাচ্ছেন।
যে ক্রেতাই দরদাম করতে যাচ্ছেন, তাকে মাংসের মান সম্পর্কে জানাচ্ছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “কাস্টমার আহে, নেয়। আবার খালি দেইখা যায়। এক কেজি ৮০০ টাকা বেচতাছি।’’
এ বাজারে খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়; ছাগলের মাংস মিলছে ১০০ টাকা কমে; ১১০০ টাকায়।

বাড়তি দামেই মুরগি
আগের সপ্তাহে হঠাৎ করে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়া ব্রয়লার মুরগির কেজি শুক্রবারও একই দরে বিক্রি হয় যাত্রাবাড়ীতে। সোনালী জাতের মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।
বিক্রেতা হালিম মোল্লা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘ব্রয়লার আগের দামই আছে; ২২০ টাকা কেজি। ঈদের জন্য আর বাড়ে নাই। সোনালীর দাম বাড়ছে, এহন ৪০০ টাকা কেজি।’’
আগের সপ্তাহে সোনালী জাতের মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হয় ৩৫০ টাকায়।
রোজার শুরুর দিকে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তা বাড়তে থাকে। সবশেষ বাড়ে শবে কদরের সময়; কেজি উঠে যায় ২৩০ টাকায়।
সেখান থেকে ১০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজিতে। তবে সোনালী জাতের মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে বলে মনে করেন হালিম মোল্লা।
তিনি বলেন, ‘‘অনেকে ব্রয়লার মুরগি খায় না। মনে করে, সোনালী জাতে ক্ষতি কম। তাই চাহিদা বাড়তি, দামও বাড়তি।’’
মহাখালী বাজারে এক ডিজন ডিম বিক্রি হয় ১১০ টাকা দরে।
ঈদের আগে সালাদের উপকরণ শসা ও টমেটোর দাম দ্বিগুন হয়েছে যাত্রাবাড়ী ও মহাখালীতে।
আগের দিন ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজির টমেটো শুক্রবার হয়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৪০-৫০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।
লেবুর দামে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি; মাঝারি আকারের এক হালির দাম পড়ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা।