Published : 30 Jun 2026, 04:35 PM
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবি ১ টাকায় নামানোর ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে সংসদে রসিকতা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ১৫ নম্বর মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “এক টাকা দিয়ে এক বছর পার করার জন্য প্রস্তাবকারী মাননীয় সদস্য যদি সাথে একটু ফু দিয়ে দিতেন, সুবিধা হত।”
তার এ মন্তব্যে অধিবেশন কক্ষে হাসির আবহ তৈরি হয়।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা মঞ্জুরির প্রস্তাব করেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চলা বৈঠকে জানানো হয়, এই দাবির ওপর ২৮ জন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছেন।
তাদের মধ্য থেকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন এবং রংপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী বক্তব্য দেন।
রুহুল আমিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সরকারি নীতি নিয়ে আলোচনার জন্য ১৫ নম্বর দাবি কমিয়ে ১ টাকা করার প্রস্তাব করেন।
তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে লাইসেন্স ও অনুমোদন, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, সরকারি ক্রয় ও টেন্ডার, বাজার সিন্ডিকেট এবং রপ্তানি নীতির বৈষম্যের মত বিষয় সামনে আসে।
তার অভিযোগ, পরিবহন টার্মিনাল, বন্দর, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন খাতে নিয়মিত চাঁদাবাজি হয়।
রুহুল আমিন বলেন, এসব চাঁদাবাজি কমানো গেলে বাজার ব্যবস্থাপনায় তার প্রভাব পড়বে, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জিনিসপত্র রাখা সহজ হবে।
তিনি বলেন, “শুধু বরাদ্দ বাড়ালে বাজার কখনও নিয়ন্ত্রণ হবে না।”
এ বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
রায়হান সিরাজী বলেন, বাণিজ্য একটি দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। উৎপাদন, বাজার ব্যবস্থা, রপ্তানি, আমদানি, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ সরাসরি যুক্ত।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা, মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা মোকাবেলায় দক্ষ ও আধুনিক বাণিজ্যনীতি দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রায়হান বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট, মজুদদারি, অসাধু সিন্ডিকেট, মূল্য কারসাজি ও ভেজাল প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি দরকার।
ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা, বাজার মনিটরিং জোরদার, ডিজিটাল মূল্য তথ্য ব্যবস্থা চালু এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, আলু ও ভুট্টাসহ কৃষিপণ্যের নতুন আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি, রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন সহজ করা এবং কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বাজার সংযোগে সহায়তার কথাও বলেন রংপুরের এই সংসদ সদস্য।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের বড় অংশ পরিচালন ব্যয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের মোট ব্যয়ের ৮৭ শতাংশ পরিচালন এবং ১৩ শতাংশ উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু মন্ত্রণালয় উন্নয়নধর্মী, কিছু মন্ত্রণালয়ের কাজ প্রশাসনিক। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাজই বেশি, উন্নয়ন অংশ তুলনামূলক কম।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, প্রস্তাবিত মঞ্জুরি দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বাণিজ্য সহায়তা এবং সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই অর্থ বাণিজ্য খাতের উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, এলডিসি থেকে উত্তরণ, স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনস্বার্থে ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করে মঞ্জুরি দাবি অনুমোদনের আহ্বান জানান।
পরে ডেপুটি স্পিকার ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ হয়।
এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাতে ৩২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা মঞ্জুরির প্রস্তাব কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।