এক বছরে প্রথমবার ডলারের দর কমলো

কারণ হিসেবে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত এবং বাণিজ্য ঘাটতি ও আর্থিক হিসাবের ঘাটতি কমার কথা বলেছেন বাফেদা চেয়ারম্যান।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2023, 06:22 PM
Updated : 22 Nov 2023, 06:22 PM

বাড়তে থাকা ডলারের দর গত এক বছর দুই মাসের মধ্যে প্রথমবার কমানো হয়েছে; বিনিময় হার ৫০ পয়সা কমানোর এ সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।

বুধবার রাতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই সংগঠন বাফেদা ও এবিবি বৈঠক করে প্রথমবারের মতো টাকার মান বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়।

বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘ডলারের দর ৫০ পয়সা কমিয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে। এই দরে কিনে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।’’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে বুধবার জরুরি এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।

এতে ২০২১ সালের অগাস্টের পর থেকে ডলারের বিপরীতে কমতে থাকা টাকার মান প্রথমবার শক্তিশালী হল। ওই সময় ডলারের দর নির্ধারণ করত বাংলাদেশ ব্যাংক।

পরের বছর সেপ্টেম্বর থেকে বাফেদা-এবিবি দর নির্ধারণ করে আসছে। এ দুই সংগঠন দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর দুই মাসের কিছুটা বেশি সময় পর প্রথমবার ডলারের দর কমানো হল।

এর কারণ ব্যাখ্যায় বাফেদার চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘গত ডিসেম্বরে দেশের চলতি ও আর্থিক হিসাব দুটি ঘাটতিতে ছিল। বর্তমানে চলতি হিসাবে প্রায় এক বিলিয়ন উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি ও আর্থিক হিসাবের ঘাটতিও কমছে ধীরে ধীরে। এ কারণেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাড়ানো হল।’’

গত ৩০ অক্টোবর থেকে রেমিটেন্স ছাড়া সব পর্যায়ে (রপ্তানি, কমার্শিয়াল) ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১১০ টাকা ৫০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ বিক্রির দর ছিল ১১১ টাকা।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১১০ টাকা কিনে আমদানিসহ যেকোনো বৈদেশিক দায় মেটাতে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করতে পারবে ব্যাংক।

তবে রেমিটেন্স আনতে সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে নিজস্ব তহবিল থেকে সর্বোচ্চ আরও আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগ ব্যাংকের জন্য অব্যাহত রাখা হয়েছে। এতে রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর হবে ১১৫ টাকা ৫০ পয়সা।

বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার অংশ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বাফেদা ও এবিবির মাধ্যমে ডলারের দর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডলারের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সেই থেকে ক্রমাগত ডলারের দর বাড়িয়ে আসছিল সংগঠন দুটি। দর বাড়ানোর হার বেশি হয়ে যাচ্ছে কি না এমন সমালোচনা মধ্যে ডলারের দরে কমানো হল।

বৈঠক শেষে বাফেদা চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ব্যাংকে এবং খোলা বাজারে নগদ ডলার কেনাবেচা আগের নিয়মেই হবে।

২০২২ সালের অগাস্টে সিদ্ধান্ত হয়, ব্যাংকের নগদ অর্থে ডলার বিক্রির দরের চেয়ে খোলা বাজারে ডলারের দরের ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ এক টাকা ৫০ পয়সা।

হুন্ডি রোধে ব্যাংক ও খোলা বাজারের মধ্যে ডলারের দর দেড় টাকা ব্যবধান রাখতে এ পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।