১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পিপিলস লিজিং: আমানত ফেরত পেতে '৩২ লাখ টাকা' খরচ আন্দোলনকারীদের

মোট ৬ হাজার আমানতকারী পিপিলস লিজিংয়ে অর্থ রাখলেও ১ হাজার ২০০ জন মোট ২০ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছেন।

পিপিলস লিজিং: আমানত ফেরত পেতে '৩২ লাখ টাকা' খরচ আন্দোলনকারীদের

আমানত ফেরত পেতে আন্দোলনের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে শনিবার সাধারণ সভার আয়োজন করে ‘পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিতে আমানতকারীদের কাউন্সিল’।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Nov 2022, 01:22 PM

Updated : 20 Nov 2022, 03:37 PM

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেখানে আমানত রাখলে বছর শেষে মুনাফা বাবদ অর্থ পাওয়া যায়, সেখানে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডে (পিএলএফএসএল) রাখা আমানত ফিরে পেতে ৩২ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে সঞ্চয়কারীদের ভাষ্য।

‘পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিতে আমানতকারীদের কাউন্সিল’শনিবার এক সাধারণ সভায় এ তথ্য তুলে ধরে বলেছে, মোট ১৭৮ জন আমানতকারী ওই অর্থের যোগান দিয়েছেন।

আমানত ফেরত পেতে আন্দোলনের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে গুলশানের ইমানুয়েলস পার্টি সেন্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়। গত তিন বছর ধরে এ আন্দোলনে যুক্ত ঢাকার আমানতকারীদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে আসা কয়েকজন সভায় যোগ দেন।

পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান পর্ষদের চেয়ারম্যান হাসান শাহেদ ফেরদৌস সভায় বলেন, “আমানতকারীরা চাইলে তাদের টাকা শেয়ারে কনভার্ট (রূপান্তর) করতে পারবেন– এরকম একটি প্রস্তাব আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তখন আমানতকারীরাই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পাবেন। অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”

১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে গ্রাহকের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত ও বিভিন্ন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ধার করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল পিপলস লিজিং।

কিন্তু ২০১৫ সালের পর থেকে অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে কোম্পানির অবস্থা ধারাবাহিকভাবে খারাপ হতে থাকে। খেলাপি প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আদায় করতে না পের আমানতকারীদের টাকাও তারা ফেরত দিতে পারেনি।

এই ঋণ কেলেঙ্কারীর ‘হোতা’ হিসেবে পরিচিত পি কে হালদার এখন ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন। দেশেও তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা চলছে।

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিনই মামলার শুনানি শেষে অবসায়নের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয় আদালত। পরে ২০২১ সালের জুন মাসে অবসায়নের আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগ। এর পর থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

হাসান শাহেদ ফেরদৌস সভায় বলেন, খেলাপি ঋণের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯০ কোটি টাকার বেশি আদায় হয়েছে। এর ৩০ কোটি টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে ঝুঁকি সামলানোর জন্য।

তিনি জানান, পিপলস লিজিং ঋণ বিতরণের সময়ে অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক জামানাত রাখা হয়নি। ফলে খেলাপিদের অনেককে ‘শক্তভাবে ধরা যাচ্ছে না’। বর্তমান পর্ষদ ওইসব ঋণের বিপরীতে সহায়ক জামানত নিয়ে পুনর্গঠন করে যাচ্ছে।

কোম্পানির চেয়ারম্যান বলেন, “আগামী বছর টাকার পরিমাণ আরও বাড়বে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে আমানতকারীদের প্রাপ্য সুদের একটি অংশ বিতরণ করা সম্ভব হবে।”

সভায় জানানো হয়, ঋণ খেলাপীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ২৮০ জন ঋণ খেলাপীর তালিকা আদালতে দেওয়া হয়েছে।

‘কলঙ্ক মুছতে’ পিপিলস লিজিংয়ের নাম বদলে ফেলার প্রস্তাব করা হয় আমানতকারীদের পক্ষ থেকে। চেয়্যারম্যান হাসান শাহেদ বলেন, পরবর্তী এজিএমে বিষয়টি প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করা হবে।

গত তিন বছর ধরে আন্দোলন পরিচালনা করতে গিয়ে খরচের হিসাব সভায় তুলে ধরেন ‘পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিতে আমানতকারীদের কাউন্সিল’ এর অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সামিয়া বিনতে মাহবুব।

তিনি বলেন, ১৭৮ জন সদস্য ৩২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা দিয়েছেন আন্দোলন পরিচালনা করতে। যার মধ্যে উচ্চ আদালতে রিট করে আমানত ফেরত পেতে ১৭৮ জনের সম্মিলিত আবেদন করা হয়।

প্রথম পর্যায়ে নিযুক্ত আইনজীবী খরচ দেওয়া হয় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন নিযুক্ত আইনজীবীর পেছনে খরচ হয় ১০ লাখ ৩২ হাজার টাকা। মিটিং, হলভাড়া, সংবাদ সম্মেলন মিলিয়ে গত ৩ বছরে খরচ হয়েছে ৩২ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

এ অর্থ সংগ্রহে ১৭৮ জন আমানতকারীর মাথাপিছু চাঁদা ছিল ১৫ হাজার টাকা করে। তবে অনেক সদস্য পুরো টাকা দেননি।

সভায় জানানো হয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশ পেয়ে এ পর্যন্ত ২০ কোটি টাকা আমানতকারীদের ফেরত দিয়েছে পিপলস্ লিজিং।

আমানতকারীদের মধ্যে ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও দেখা যায় সভায়।

১৫ লাখ টাকা সঞ্চয় রেখে দেড় লাখ টাকা ফেরত পাওয়া হাসনা বেগম বলেন, “শুধু আমানত থেকে টাকা পেয়েছি। সুদ বাবদ কোনো অর্থ দেয়নি।”

টাকা পেতে ২০২১ সালের নভেম্বরে আবেদন করে আমানতের কিছু অংশ ফেরত পাওয়া সামিয়া বিনতে মাহবুব বলেন, “আবেদনকারীদের মধ্যে অগ্রাধিকার বিবেচনায়, বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ ও নিতান্ত আর্থিক কষ্টে রয়েছেন যারা, তাদের প্রথমে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে সর্বনিম্ন ১ লাখ ও সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা করে পেয়েছেন আবেদনকারীদের একাংশ। মোট ৬ হাজার আমানতকারী পিপিলস লিজিংয়ে অর্থ রাখলেও ১ হাজার ২০০ জনকে মোট ২০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী ও পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান পর্ষদ সদস্য মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক বলেন, পরবর্তী অর্থ ছাড়ের সময়ে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন।

পুরনো খবর

পুরানো খবর:

পিপলস লিজিং পুনরুজ্জীবন: নতুন পর্ষদ গঠন, একগুচ্ছ নির্দেশনা

পুরানো খবর:

অবসায়ন নয়, পিপলস লিজিং পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত দিল হাই কোর্ট

পুরানো খবর:

পিপলস লিজিং: আমানত ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

পুরানো খবর:

পিপলস লিজিং: ‘দায় এড়াতে পারে না’ বাংলাদেশ ব্যাংক