Published : 17 Jun 2026, 02:57 PM
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলনরত ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এর প্রতিনিধিরা গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের আশায় বাংলাদেশ ব্যাংকে গেলেও শেষ পর্যন্ত তার দেখা পাননি।
শেষ পর্যন্ত বুধবার দুপুরে তারা ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং একটি ‘সুষ্ঠু ও দলনিরপেক্ষ’ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি তুলে ধরেন।
সেই সঙ্গে ব্যাংকটিতে এস আলম গ্রুপের শেয়ার জব্দ এবং তা বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করারও প্রস্তাব দেওয়া হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
বৈঠক শেষে ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর উন নবী বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, “গভর্নর আমাদের সময় দেননি। কথা বলার জন্য তিনি ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদকে নিযুক্ত করেছেন।”
এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাত দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি দেয় গ্রাহক ফোরাম। তাদের দাবি, ওই সময় গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বুধবার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অধ্যাপক নুর উন নবী বলেন, “স্মারকলিপি দেওয়ার সময় আমরা গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন পরিচালক আমাদের অনুরোধ করেছিলেন বুধবার আসতে। গভর্নরের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এ জন্যই আমরা এসেছি, কিন্তু তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারিনি।”
তিনি বলেন, “গভর্নর আমাদের সঙ্গে মিটিং করতে ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদকে নিযুক্ত করেন। আমরা তার কাছে আমাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেছি। ইসলামী ব্যাংকে দলনিরপেক্ষ ও আর্থিক কেলেঙ্কারি মুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সুন্দর পর্ষদ গঠনের অনুরোধ জানিয়েছি।”
গ্রাহক ফোরামের দাবি, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই’ ইসলামী ব্যাংকে একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ পর্ষদ দেওয়া হবে বলে ডেপুটি গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করেছেন।
ইসলামী ব্যাংকে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মঙ্গলবার ৭ দফা দাবি জানায় সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে— আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ‘জোর করে’ নেওয়া এস আলম গ্রুপের শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা হস্তান্তর, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা, এস আলমসহ লুটেরাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮ (ক) ধারা সংশোধন এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘অসত্য বক্তব্য’ প্রত্যাহার।
মঙ্গলবার স্মারকলিপি দেওয়ার পর অধ্যাপক নুর উন নবী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সাধারণ গ্রাহকদের আমানত রক্ষায় অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
শরিয়াহভিত্তিক এ ব্যাংকটিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয় কোরবানি ঈদের আগে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান গত ২৪ মে পদত্যাগ করেন।
সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ঈদের পর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি।
এই অস্থিরতার মধ্যে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা তিন হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বলে খবর আসে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা গড়ায় জাতীয় সংসদেও।
ফের ইসলামী ব্যাংক ‘দখলের চেষ্টা’ হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকটিকে “অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
শেষ পর্যন্ত গত ১৪ জুন ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সর্বময় ক্ষমতা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।