Published : 30 Oct 2025, 11:02 PM
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা চুক্তির ‘অনিয়ম’ অনুসন্ধানের পাশাপাশি এবার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা চালাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এজন্য তিন সদস্যের নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেটি এখন থেকে এ দুটি বিষয়ই খতিয়ে দেখবে।
এ কমিটির নেতৃত্ব দেবেন দুদকের উপপরিচালক আল আমিন। তার সঙ্গে রয়েছেন উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান।
সংস্থার উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নতুন এ কমিটি গঠনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুল্ক ও কর অব্যাহতির সুবিধা নিয়ে ভারতীয় কোম্পানি আদানির সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ‘রাজস্ব ফাঁকির’ অভিযোগ দুদকের আরেকটি কমিটি আগে থেকেই অনুসন্ধান করছে।
তবে নবগঠিত এ কমিটি এখন পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার পাশাপাশি ওই ‘অনিয়মের’ অনুসন্ধানও করবে, নাম প্রকাশ না করে বলেন সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “নতুন কমিটি চুক্তির কাঠামো, আর্থিক সম্ভাব্যতা, সম্ভাব্য ক্ষতি ও অনিয়মসহ সবদিক বিস্তারিত পর্যালোচনা করবে। কমিটির তিন সদস্যই সরকারি কেনাকাটার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী ও অভিজ্ঞ।”
নবগঠিত কমিটি চুক্তিতে কোনো অনিয়ম বা স্বার্থসংঘাত হয়েছে কি না সেটিও যাচাই করবে তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা বলেন, পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে বিধি অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ দিন। যাচাই শেষে যদি চুক্তিটি অবৈধ বা অযৌক্তিক প্রমাণিত হয়, তবে চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সুপারিশও করতে পারবে কমিটি।
এর আগে আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পাশ কাটিয়ে শুল্ক ও কর অব্যাহতির মাধ্যমে ‘প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ফাঁকির’ অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক।
এর আগেস তদন্তে নেমে আদানির বিদ্যুৎ আমদানিতে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের শুল্ক 'ফাঁকির' প্রমাণ পায় এনবিআর। বহুল আলোচিত এ চুক্তির সময় রাজস্ব আদায়কারী এ সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রমাণও তদন্তে পাওয়ার কথা বলেছে তারা।
ওই তদন্তে এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিদ্যুৎ প্রবেশ ও সঞ্চালনের সময় আমদানির যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের অংশ হিসেবে কোনো ‘বিল অব এন্ট্রি দাখিলের প্রমাণ পায়নি’। এছাড়া তা আইনি পন্থায় নিষ্পত্তি না করার প্রমাণও পায় তারা।

এর প্রেক্ষাপটে কর ‘ফাঁকির’ বিপুল এ অর্থ পিডিবির কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করে এনবিআরের ওই কমিটি।
এনবিআরের আট কর্মকর্তার ওই তদন্ত দল আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার আলোচিত এ চুক্তিতে শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো কীভাবে সম্পাদন করা হয়েছে, তাতে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, শুল্ক পরিহার বা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে কি না; এমন আরও কিছু প্রশ্ন সামনে রেখে অনুসন্ধানে নেমেছিল।
তাদের প্রতিবেদনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই পর্যন্ত ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের বিপরীতে ৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৭ ডলারের শুল্ক-কর ‘ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য উঠে আসে।
২০২৩ সালের ৯ মার্চ ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় স্থাপিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। তখন থেকেই আমদানি করা এ বিদ্যুতের শুল্কসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করা হয়নি।
এনবিআরের দল তদন্তে দেখতে পেয়েছে, ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় আদানির কাছ থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে শুল্ক ও অব্যাহতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এনবিআরসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়নি।
প্রবল গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে। তখন অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর অধীন সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনায় একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে।
এ কমিটি ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর ভারতের আদানি পাওয়ারসহ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত ১১টি চুক্তি খতিয়ে দেখার তথ্য দেয়। এর মধ্যে আদানি পাওয়ারের ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন গড্ডা পাওয়ার প্লান্টও রয়েছে।