Published : 05 Jun 2026, 09:32 PM
কোরবানি ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়া মানুষ এখনো ঢাকায় ফিরছেন, ফলে এক সপ্তাহ পরেও ঢাকা আগের রূপে ফেরেনি।
তাই কাঁচাবাজারে সবজি ও ডিমের চাহিদা কম, ঘরে কোরবানির পশুর মাংস থাকায় মুরগির মাংসেরও তেমন কদর নেই, তাতে এসব পণ্যের বাজারে ঈদের আগের সেই উত্তাপ নেই।
আর মাছের সরবরাহও কম দেখা গেল শুক্রবার ঢাকার কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে।

গেল ২৮ মে কোরবানি ঈদ উদযাপন করেছে বাংলাদেশের মানুষ। ২৫ মে থেকে টানা এক সপ্তাহ ছুটির পর সোমবার থেকে অফিস খুলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে রোববার থেকে। স্বজনদের সঙ্গে এই অবকাশ কাটাতে যারা ঢাকার বাইরে গেছেন বহু মানুষ, তারা এখন ফিরছেন।
বাজার ঘুরে দেখায় যায়, কাঁচা পেঁপে, ঝিঙা, ধুন্দল, বেগুন, করলা, কাকরোল, কাঁচামরিচ, বরবটি, লাউ ও চাল কুমড়ার দাম কমেছে। আগের দরে বিক্রি হচ্ছে চিচিঙ্গা, পটল, ঢেঁড়স ও শসা।
বাজার ভেদে কয়েকটি সবজির দামে ফারাক দেখা গেছে।
প্রায় দুই মাস পর পেঁপের দাম কমে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় নেমেছে ঢাকার তিন বাজার শনির আখড়া, যাত্রবাড়ী ও সেগুনবাগিচায়।
সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের দোকানি মোহাম্মদ সেলিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পটল ও ঢেঁড়স ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি। পেঁপে বিক্রি করছেন কেজি ৫০ টাকা দরে। এক সময়ে ৩০ টাকা কেজির কাঁচা পেঁপে ঈদের আগ পর্যন্ত ৮০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে।
অন্যদিকে গত সপ্তাহেও যাত্রাবাড়ী ও শনির আখাড়ায় ঢেঁড়স বিক্রি হয় ৩০ টাকা দরে। তবে এই দুই বাজারে আগের সপ্তাহের দরে পটল বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। ঈদের আগের দরেই টমেটো বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৮০ টাকা।
শনির আখড়া বাজারে ঝিঙা ও ধুন্দল ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন চান মিয়া।
কিন্তু এই দুই সবজি সেগুনবাগিচায় ঈদের আগের দর ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রির কথা বলেছেন মোহাম্মদ জাসিম।
এই সবজি বিক্রিতা বলেন, “বেচা-বিক্রি তো কম। মানুষ নাই ঢাকায়। দোকান খরচা উঠাইতে এর চেয়ে কম বিক্রি করলে লস।” তবে দরকষাকষি করলে প্রতি কেজি ৬০ টাকাও বিক্রির কথা বললেন তিনি।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাকরোল ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও সেগুনবাগিচায় তা ৮০ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহে দুই বাজারেই কাকরোল বিক্রি হয় ১০০ টাকা কেজি দরে।

অবশ্য শনির আখড়া, সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ী বাজারে চিচিঙ্গা আগের দরে, অর্থাৎ প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
শনির আখড়া বাজারে করলা আগের দর, অর্থাৎ প্রতি কেজি ৬০ টাকা ও আমদানিকৃত গাজর বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১৮০ টাকা।
ঈদের সময়ে প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি জাতের চাষের শসা সেই একই দরেই বিক্রি হয় তিন বাজারে। তবে হাইব্রিড শসা বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে। ঈদের আগে শনির আখড়ায় এ দুই জাতের শসা বিক্রি হয় প্রতি কেজি যথাক্রমে ৬০ টাকা ও ৫০ টাকা।
সেগুনবাগিচায় ২০ টাকা কমে প্রতি কেজি গোল বেগুন ৮০ টাকা ও লম্বা বেগুন ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
মাঝারি আকারের একটি লাউ সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে, ঈদের আগেও এই দরে বিক্রি হয়েছে। চাল কুমড়ার দাম ২০ টাকা কমে প্রতিটি বিক্রি হয় ২০ টাকায়।
কেজিতে ১০ টাকা কমে যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে বরবটি বিক্রি হয় ৫০ টাকায়। কাঁচামরিচ গত সপ্তাহের তুলনায় ৪০ টাকা কমে কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ৮০ টাকা।
প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। আর পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে করে ডায়মন্ড জাতের পাঁচ কেজি আলু বিক্রি হয় ১০০ টাকায়, আগের সপ্তাহে পাওয়া গেছে ছয় কেজি।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজরে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হয় ১৬৫ টাকায়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৮০ টাকা। অবশ্য সেগুনবাগিচায় প্রতি কেজি ব্রয়লার আগের মতো ১৮০ টাকায় বিক্রি করছেন জাকির হোসেন।
সোনালী জাতের মুরগি যাত্রাবাড়ীতে আগের দর ৩৪০ টাকায় বিক্রি হলেও সেগুনবাগিচায় ৪০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৯০ টাকা।
শনির আখড়া বাজারের বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিম এক হালি ৪৫ টাকা, আর এক ডজনের দাম ১৩৫ টাকা। ঈদের আগের কয়েকদিন প্রতি ডজন ১৪০ টাকা ও হালি ৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

মাছের সরবরাহ কম
ঈদের পরে এই তিন বাজারে মাছের সরবরাহ তুলনামূলক কমেছে। বিক্রেতাদের সবাই দোকান নিয়ে বসেননি। কার্প, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই, টেংরা, কই, শিং ও কয়েক প্রকার ছোট মাছ এসেছে বেশি।
শনির আখড়ায় সিলভার কার্প ও পাঙ্গাস ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা কথা বলেছেন বিক্রেতা আবু কাওছার।
ঈদের আগে সিলভার কার্প বিক্রি হয় প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। আর পাঙ্গাস বিক্রি হয় ১৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে।

এ বাজারে মাঝারি আকারের তেলাপিয়া ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ঈদের আগেও একই দরে বিক্রি হয়েছিল। আর বড় আকারের তেলাপিয়া আগের দর, প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়।
মলা মাছ বিক্রি হয় ২০০ টাকা কেজি দরে, ঈদের আগে যা ছিল ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। সরপুটি বিক্রি হয় ২০০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ছিল ২৫০ টাকা।
ঈদের আগের মতো টেংরা ৫০০ টাকা এবং শিং ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।