Published : 05 Jun 2026, 09:03 AM
দেশের উন্নয়নে সকল ক্ষেত্রেই নারীর ক্ষমতায়নে জোর দিচ্ছেন দেড় যুগ ধরে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসা রূপালী চৌধুরী।
তিনি বলছেন, দেশের জনসংখ্যায় পুরুষ ও নারী সমানে সমান। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন করা গেলে তারাও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সমান ভাগিদার হয়ে উঠবেন। আর বার্জার পেইন্টসও নারী শক্তিকে কাজে লাগানোর নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’–এ নারীর ক্ষমতায়নে বার্জারের পেইন্টসের ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ‘ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (ফিকি) প্রেসিডেন্ট রূপালী চৌধুরী।
নারীদের নিয়ে বার্জার পেইন্টসের পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ৫০ শতাংশই নারী। তাই আমাদের মার্কেটিং টিম বৃহৎ নারী শক্তিকে নানাভাবে কাজে লাগানোর বিষয়ে ভাবছে। যার মধ্যে নারী ফুটবলাররা আমাদের একটা এক্সাইটমেন্টের (আগ্রহের) জায়গা।
“পুরুষদের ফুটবলের পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। অর্জন হয়েছে, অনেক সময় হয়নি। আর যাদের পেছনে কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নেই, তারা অনেক অর্জন করে ফেলেছে। তারা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের অনেকের সংগ্রামী জীবন এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে উঠে আসা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা যখন নারী পেইন্টারদের নিয়ে কাজ করছি, তাহলে নারী ফুটবলারদের নিয়ে কেন নয়?”
তিনি বলেন, “নারী পেইন্টারদের নিয়েও আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। তাদের নিয়ে অনেক বড় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও রয়েছে। কারণ নারীর ক্ষমতায়ন মানেই দেশ এগিয়ে যাওয়া।”

বার্জার পেইন্টসের সঙ্গে রূপালী চৌধুরীর পথচলা নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে। ১৯৯০ সালে এ কোম্পানিতে ‘প্ল্যানিং ম্যানেজার’ হিসেবে তিনি যোগ দেন। এরপর মার্কেটিং, সেলস ও সাপ্লাই চেইনের মত বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বও সামলান।
২০০৮ সালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আসেন তিনি; দেড় যুগ ধরে এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ করতে চাই। আমাদের ‘ইএসডি প্রোগ্রাম’ আছে, সেখানে দেখা যায় যে আমাদের যে ‘এসডিজি গোল’ আছে সেটার সঙ্গে সমন্বয় করতে।”
নারীদের এগিয়ে নিতে বার্জারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো ভূমিকা থাকলে সেটার জন্য বার্জার সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। বাংলাদেশের যে উন্নয়ন, সেখানে নারী ছাড়া সম্ভব নয়। আর ফুটবল সেখানে অনন্য একটি বিষয়।”

নিজেদের ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে নারী পেইন্টারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বার্জার পেইন্টস।
রূপালী চৌধুরী বলেন, “সেখানে নিয়মিত নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যার মধ্যে বর্তমানে ৪৩ জন বিদেশে কাজ করছে। ৩৩টি প্রজেক্ট শেষ করেছে। পেইন্টারদের একটা ‘পাইপলাইন’ তৈরি করছি।
“তবে নতুন কোনো নির্মাণাধীন ভবনে তাদের পাঠাই না। কারণ সেইফটি-সিকিউরিটির একটা ব্যাপার আছে। আর কোনো কারণে পাঠানো হলেও সঙ্গে পুরুষ একজন থাকে।”
জেনসন অ্যান্ড নিকোলসন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা রূপালী চৌধুরীর কথায়, “সবাই অ্যাকাডেমিক দিকে ভালো হয় না। প্রতিটির মানুষের দক্ষতা ভিন্ন ধরনের হয়, আর সেসব জায়গা তুলে ধরাই হল আসল। আমাদের যেহেতু রঙের কোম্পানি, তাই পেইন্টিংয়ের সঙ্গে এর একটা সম্পর্ক আছে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন রূপালী চৌধুরী।
তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল বহুজাতিক ওষুধ ও রাসায়নিক কোম্পানি ‘সিবা গেইগি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে’। ১৯৯০ সালে ওই কোম্পানি ছেড়ে যোগ দেন বার্জার পেইন্টসে।
নারী পেইন্টার তৈরি করা ‘দীর্ঘদিনের স্বপ্ন’ ছিল মন্তব্য করে রূপালী চৌধুরী বলেন, “শুরুতে বেশ কঠিন মনে হত। তারপর কয়েকজনকে নিয়ে শুরু করা, তাদের আগ্রহ এবং সক্ষমতা দেখে অনেক সহজ হয়েছে।
“বিভিন্ন নির্মাণকাজে মেয়েরা ভারী ভারী জিনিস বহন করে। সেটার অনুপ্রেরণায় আমরা ভেবেছি শ্রমসাধ্য হলেও পেইন্টিং মেয়েরা পারবে। পেইন্টিংয়ের পেমেন্ট ভালো। এখান থেকে তারা শুধু পেইন্টার নয়, বরং একসময় তারা ‘পেইন্টার কন্ট্রাক্টর’ হয়ে যাবে।”

বার্জারে দীর্ঘ দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার ব্যাপারে তিনি বলেন, “প্রথমত কোম্পানিতে নেতৃত্ব দেওয়ার অন্যতম একটি বিষয় হল ‘আমরা কীভাবে পারফর্ম করছি’। আর দ্বিতীয়ত যে কর্মীরা কতটুকু জড়িত আছে সম্পূর্ণ কোম্পানির কাজকর্মে।
“আবার আমাদের লোকজন কোনো কোম্পানিতে যায় না, তারা এখানে খুব খুশি মনে কাজ করে এবং তাদের প্রোডাক্টিভিটি খুব বেশি। এসব ইন্ডিকেশন কিছুটা আমার নেতৃত্বকে বোঝায় যে, মোটামুটি ভালোভাবে চলছে।”