Published : 04 Jun 2026, 04:19 PM
প্রান্তিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের নতুন খুচরা মূল্যহার পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বুধবার বিইআরসি বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা দাম বাড়িয়ে মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করে।
নতুন সিদ্ধান্তে আবাসিক গ্রাহকদের সব ধাপেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। এর মধ্যে ০ থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন বা প্রান্তিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে।
এই ধাপে ইউনিটপ্রতি দাম বেড়েছে ৬৯ পয়সা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। নতুন দাম জুনের মাসের বিল থেকে কার্যকর হবে।
এর ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিইআরসির পুনর্নির্ধারিত দামে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির প্রস্তাবিত প্রান্তিক গ্রাহকদের মূল্যহার প্রতিফলিত হয়নি।
এর ফলে প্রান্তিক গ্রাহক, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। এতে তাদের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে পুনর্নির্ধারিত দাম পর্যালোচনা করে প্রান্তিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বুধবার পিডিবির পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে নতুন করে মূল্যহার নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে বিইআরসিকে চিঠি দিল বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিইআরসি এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি করে বিইআরসি।
পরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ অনুযায়ী কমিশন বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করে।
পিডিবি গণশুনানিতে প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৯৫ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। সে হিসাবে ইউনিটপ্রতি ৩২ পয়সা বা প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল পিডিবির।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পিডিবির প্রস্তাবের চেয়ে বেশি মূল্যহার নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।
উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রি থেকে আয়ের ব্যবধান কমাতে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল পিডিবি।