Published : 19 Apr 2026, 10:26 AM
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিকদের একটি অংশ।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি নামের সংগঠনটি ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তেলের দামের এই সমন্বয় “একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।”
সমিতির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে রোববার এ কথা বলা হয়।
সেখানে বলা হয়, জ্বালানি তেলের ‘কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে যে অবৈধ মজুদ’ করার প্রবণতা ছিল, তা দাম বাড়ানোর কারণে অনেকাংশে কমবে এবং বিক্রিতে আরও ‘স্বচ্ছতা’ আসবে।
জানতে চাইলে পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছরের মার্চে সরকার অনেক বেশি তেল সরবরাহ করেছে। তারপরও পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পরিবহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এটি স্বাভাবিক মনে হয়নি।
“বিভিন্ন জায়গায় মজুদের অভিযোগ ছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তেল উদ্ধারের অভিযান চালিয়েছে। আমাদের মনে হয়েছে, প্রকৃত চাহিদার বাইরে একটি শ্রেণি ঘরে ঘরে তেল মজুদ করছিল। দাম সমন্বয়ের ফলে অন্তত সেই প্রবণতা কিছুটা কমবে।”
পাম্প মালিকদের মজুদ করার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেছেন পারভেজ।
তিনি বলেন, “সরকার যখন দেশে কত দিনের তেল মজুদ আছে বলে হিসাব দেয়, তখন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মজুদের পাশাপাশি সারা দেশের পেট্রোল পাম্পের আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকে থাকা তেলের পরিমাণও ধরা হয়। পাম্পে কতটুকু তেল রাখা যাবে, সেটাও সরকারের নিয়মের মধ্যেই হয়।”
দাম বাড়ায় পাম্প মালিকদের কমিশন কতটা সমন্বয় হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি সমিতির এই নেতা।
তিনি বলেন, “আগে আমাদের বিভিন্ন খরচ, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে মিলিয়ে হিসাব করে দেখতে হবে। এরপর বলা যাবে, আমাদের আগের দাবির সঙ্গে এই সমন্বয় কতটা মিলেছে।”
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির চলমান সদস্য সংখ্যা এক হাজারের বেশি জানিয়ে পারভেজ বলেন, সারা দেশে বর্তমানে চালু পেট্রোল পাম্প রয়েছে ২ হাজার ২৯৮টি।
সরকার শনিবার রাতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে, যা মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দরে ডিজেলের লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাতে করে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ১৫ টাকা (আগের দর ১০০ টাকা), অকটেন ২০ টাকা (আগের দর ১২০), পেট্রোল ১৯ টাকা (আগের দর ১১৬) এবং কেরোসিন ১৮ টাকা (আগের দর ১১২) বেড়েছে।
এর আগে বেশ কয়েক মাস ধরে এ চার ধরনের তেলের দাম প্রায়ই একই রকম ছিল। সবশেষ এপ্রিলেও তা অপরিবর্তিত রাখা হয়। আর এর আগের কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সমন্বয় করতে বাড়ানো বা কমানো হলেও তা এক দুই টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার চড়তে থাকার কারণে এবার এক লাফে তা ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হল।
শনিবার নতুন দর নির্ধারণের বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এর আগে জেট ফুয়েলের দর বাড়ানো হয় কয়েক দফায়। দাম বেড়েছে ফার্নেস অয়েলেরও।
সরকারের তরফে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর কথা বলা হলেও ৭ এপ্রিল ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল প্রয়োজন হলে মে মাসে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ভর্তুকির চাপ সামলাতে এপ্রিলের মাঝামাঝিতেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার।
পুরনো খবর-
ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দামে লাফ