Published : 03 May 2026, 03:25 PM
গত বছরের জানুয়ারি মাসে তুলে নেওয়া ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আবারও চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্বল্পমূল্যের জুতা, স্যান্ডেল উৎপাদনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির ব্যবসায়ীরা।
সংগঠনটি বলছে, প্রান্তিক আয়ের মানুষের ও ঘরে ব্যবহারের জন্য ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামের প্লাস্টিক ও হাওয়াই চপ্পলের উপর ভ্যাট অব্যাহতি ছিল। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ এর ক্রেতা। এখন ভ্যাট আরোপ করায় দিন মজুরের খরচও বেড়ে গেছে।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংসবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ ফজলু বলেন, “এ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের বড় অংশই পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক থেকে আসে, যা পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে। দরিদ্র মানুষের ব্যবহৃত এই পণ্য ভ্যাটমুক্ত না করা হলে শিল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বছরের ৯ জানুয়ারি ১৫০ টাকা পর্যন্ত প্লাস্টিক ও হাওয়াই চপ্পলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা তুলে নেওয়া হয়। ২০১৬ সাল থেকে ওই সুবিধা চলে আসছিল।
ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা তুলে নেওয়ায় স্বল্প আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ যোগ হচ্ছে দাবি করে মোহাম্মদ ফজলু বলেন, “একজন রিকশাচালক বা দিনমজুরের কাছে ১০-১৫ টাকাও অনেক মূল্যবান। ভ্যাট আরোপ করায় এখন সেই খরচ বাড়তে শুরু করেছে।”
তাতে দেশীয় উৎপাদন কমে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দরিদ্র মানুষের ব্যবহৃত এই পণ্য ভ্যাটমুক্ত করা দরকার। এরসঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক আছে সারা দেশে। ৫৫০টি কোম্পানি আমাদের সংগঠনেরই সদস্য। এত শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।”
উৎপাদন বন্ধ হলে বিদেশি পণ্য বাজার দখল করবে এবং তাতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হবে মন্তব্য করে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, “বিদেশি পণ্যের আমদানি বাড়লে ডলার তো দেশ থেকে বেরিয়ে যাবে।”
আগামী বাজেটে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এ খাতটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প রক্ষায় পুনরায় ভ্যাট অব্যাহতি চেয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বলেন, “২০১৬ সালে ডলারের যে মূল্য ছিল, এখন তা অনেক বেড়েছে। একইভাবে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও বেড়েছে।
“আমরা যদিও রিসাইকেলড পণ্য তৈরি করি, তবু কিছু কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। ফলে উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। এখন ভ্যাট যোগ করায় ১০০ টাকার চপ্পল ১১৫ টাকা হয়ে গেছে। গরিব মানুষের দিকে তাকিয়ে হলেও ভ্যাট তুলে নেওয়ার দাবি করছি।”
সমিতির সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত খান, আইন উপদেষ্টা তাইফুল সিরাজ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।