Published : 05 Aug 2023, 11:29 PM
সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোম্পানির সাড়া মিলছে জানিয়ে শিগগির দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
শনিবার ঢাকায় এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: বঙ্গবন্ধুর দর্শন’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
চাহিদার তুলনায় দেশে অভ্যন্তরীণ গ্যাসের মজুদ কম হওয়ায় সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি গ্যাসের অস্তিত্ব থাকলেও খুঁজে দেখা হয়নি এমন ক্ষেত্র বের করতে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
সচিব বলেন, ‘‘অফশোর ক্ষেত্রের গ্যাস আহরণে আন্তর্জাতিক কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। কয়েকটি কোম্পানি ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে আমরা বিডিং রাউন্ডে যাব।“

দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়ার তাগাদা দিয়ে আসছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা। গ্যাস উত্তোলনে আগের উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) আগ্রহী করে তুলতে পারেনি। কয়েকটি কোম্পানি এ কাজের জন্য চুক্তি করেও চলে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে জুলাইয়ের শেষ দিকে আগের শর্ত সংস্কার করে নতুন মডেল পিএসসি অনুমোদন করা হয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে।
জ্বালানি সচিব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত ১৩২টি কূপ খনন করা হয়েছে। এরপরও বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ায় যে গ্যাস প্রয়োজন, সেটি দিতে পারছি না।
স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, কূপ খননের পূর্বে টুডি ও থ্রিডি সার্ভে করতে হয়। এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজার লাইন কিলোমিটার টুডি ও থ্রিডি জরিপ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৬টি কূপ খননের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী কোম্পানি বাপেক্স এর খুব বেশি সক্ষমতা না থাকায় এ কাজে বিদেশি কোম্পানিকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
নতুন মডেল পিএসসির কথা জানিয়ে খায়েরুজ্জমান বলেন, ‘‘অন্যান্য দেশ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে যে সুবিধা দেয় তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশও সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’
তিনি বলেন, বছরে সমুদ্রে দুই থেকে তিনটির বেশি কূপ খনন করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে।
সেমিনারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকে এখন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
তিনি বলেছেন, গ্যাস কূপ খনন করতে দুই বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হয়। এত পরিামাণ অর্থায়ন এখন বাস্তবসম্মত নয়। এজন্য জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে।
তিনি বলেন, এক হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাড়ে তিন হাজার একর জমি প্রয়োজন। এ পরিমাণ জমি আমাদের নেই।
এ অবস্থায় বায়োগ্যাস বিকল্প হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, পারিবারিক ও বাণিজ্যিক খামারের সংখ্যা দেশে বাড়ছে। বায়োগ্যাস ও পয়োঃবর্জ্য থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে বাসও চলছে অনেক দেশে। আমাদের দেশে যে পরিমাণ খামার রয়েছে তাতে বায়োগ্যাস টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।
নতুন পিএসসি-সার্ভে: সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান এবার গতি পাবে?
এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় গ্যাস, কয়লা ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে বলেন।
তিনি বলেন, “চলমান বৈশ্বিক সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জ্বালানি খাত। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ এটি। জ্বালানির দাম বাড়ায় বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ছে স্থানীয় উদ্যোক্তারা।”
বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান হোসেন পাইলট প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ফুলবাড়ীতে কয়লা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বের করার পরামর্শ দিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, বিদ্যুৎ পাইতে হইলে আমাদের কয়লা দরকার।’’