১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এটুকু সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল: তেলের দাম নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী

“জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত যে ইমপ্যাক্ট (প্রভাব), সেটা এত ন্যূনতম যে খাদ্যমূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে না। আমাদের হিসাবে পড়বে না,” বলেন তিনি।

এটুকু সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল: তেলের দাম নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী
শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস থেকে ডিজেল নিতে এসেছে নীলক্ষেতে ছবি: মাহমুদ জামান অভি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Apr 2026, 09:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:27 PM

দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীলতার স্বার্থে জ্বালানির তেলের দাম সমন্বয় ‘প্রয়োজন ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার বিকালে দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে কিনা, দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘‘যে পরিমাণ জ্বালানি এদেশে আমরা আনি, এবং আন্তজার্তিক বাজারে মূল্যের যে উল্লম্ফন ঘটেছে, এই অর্থনীতির ন্যূনতম স্থিতিশীলতার স্বার্থে এটুকু অ্যাডজাস্টের (দর সমন্বয়) নেহায়েত প্রয়োজন ছিল।”

দেশে ‘সার্বিক মূল্যস্ফীতি’ ৮ দশমিক ৩ শতাংশের উপরে বলে তথ্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি দুইভাবে হয়। চাহিদা বেড়ে গেলে ও পণ্যের খরচ বেড়ে গেলে। নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও আর্থিক সক্ষমতার নিচে থাকা জনগোষ্ঠীর আয়ের পুরো টাকাই শেষ হয়ে যায় খাদ্য ও ঘর ভাড়ায়।

“জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিজনিত যে ইমপ্যাক্ট (প্রভাব), সেটা এত ন্যূনতম যে খাদ্যমূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে না। আমাদের হিসাবে পড়বে না।’’

শনিবার চার ধরনের তেলের নতুন দর লিটারপ্রতি আগের চেয়ে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। শনিবার মধ্যরাত থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।

ডিজেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা।

এতে করে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা (আগের দর ১০০ টাকা), অকটেন বেড়েছে ২০ টাকা (আগের দর ১২০), পেট্রোল বেড়েছে ১৯ টাকা (আগের দর ১১৬) এবং কেরোসিন বেড়েছে ১৮ টাকা (আগের দর ১১২)।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসতে প্রতি ট্রাকের বাড়তি খরচ হবে ৪৫০ টাকা। এতে খাদ্যমূল্যস্ফীতিতে তেমন প্রভাব পড়বে না।

“যদি মূল্যস্ফীতি ঘটেও, এটার প্রভাব যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর না পড়ে, সেজন্য সরকার যথাযথভাবে হস্তক্ষেপ করবে। সুতরাং এটা নিয়ে আপনারা চিন্তিত হবেন না।’’

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘টিসিবির ৭৮ লাখ উপকারভোগী আছে। প্রতি মাসে তাদের স্বল্পমূল্যে খাবার সরবরাহ করি। ৪ কোটি পরিবারকে চাল-তেল দেওয়া হয়। রোজার সময়ে চিনি দেওয়া হয়। এর বাইরে দুই ঈদের সময়ে ট্রাকসেল দেওয়া যায়। যাতে এর বাইরের জনসংখ্যাকে সুবিধা দেওয়া যায়।”

বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বোতলজাত তেলের ঘাটতির কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এর জন্য বাজারে ‘সিন্ডিকেটের’ ওপর দায় চাপান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘বাজারে সিন্ডিকেট করা কতিপয় ব্যক্তির হাতে দেশের সাধারণ মানুষকে সরকার কোনোভাবেই জিম্মি হতে দেব না। অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা বন্ধে সরকার সজাগ রয়েছে।”

আরও পড়ুন-

ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দামে লাফ