Published : 29 Jun 2026, 09:27 PM
আড়াই বছর আগে বাতিল করে দেওয়া আমানত ও ঋণের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধানসীমার বা স্প্রেড এর বিধান ফিরিয়ে আনল বাংলাদেশ ব্যাংক।
এখন থেকে ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারের মধ্যে ব্যবধান বা স্প্রেড হতে হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ।
সোমবার স্প্রেড বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্যান্য সকল ঋণের সঙ্গে আমানত সুদহারের ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ।
মুদ্রানীতি ঘোষণার আগের দিন এমন সিদ্ধান্ত জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর মানে হচ্ছে, ব্যাংকগুলো যে সুদহারে আমানত সংগ্রহ করবে তার গড় সুদ ও ঋণ বিতরণের গড় সুদহারের মধ্যে ব্যবধান হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। ভোক্তা ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ ছাড়া অন্য সব ঋণের ক্ষেত্রে স্প্রেড হিসাব গণনা করা হয়।
এই ৪ শতাংশের মধ্যে ব্যাংকের সকল তহবিল ও পরিচালন খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা করতে হবে।
বর্তমানে ব্যাংক খাতে কোনো স্প্রেড নেই; বেশিরভাগ ব্যাংকের তহবিল খরচই সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশের ওপরে।
দুর্বল ও খেলাপি ঋণ বেশি থাকা ব্যাংকের তহবিল ব্যয় আরো বেশি।
বর্তমানে দুটি ছাড়া কোনো বেসরকারি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে নেই।
নতুন নিদের্শনা জারি হওয়ার পর থেকেই কার্যকর করার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
২০২০ সালে ব্যাংকে ঋণসীমা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার সময় মূলত স্প্রেড অকার্যকর হয়ে যায়।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপে ধাপে ধাপে ঋণের সুদহার সীমা বাড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে স্প্রেডসীমা সার্কুলার দিয়ে স্থগিত করা হয়।
সবশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে ঋণ সুদহার বাজারভিত্তিক করা হলেও কোনো স্প্রেডসীমা ঠিক করে দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন সিদ্ধান্ত দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, “গত ২০২৪ সালের ৮ মে সার্কুলার দিয়ে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা প্রবর্তন করার পর ব্যাংকসমূহকে সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। সম্প্রতি পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, অনেক ব্যাংকের আমানতের সুদহারের তুলনায় ঋণের সুদহার অধিক হারে নির্ধারণের ফলে গড়ভারিত অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যবসা-শিল্প প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
“এক্ষণে, উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন খাতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের লক্ষ্যে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তাঋণ ছাড়া অন্যান্য খাতে ঋণ এবং আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার জন্য আপনাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করা হল।”
স্প্রেডসীমা ঠিক করে দেওয়ায় ব্যাংকগুলোকে হয় আমানত সুদহার বাড়াতে হবে, নয়ত ঋণ সুদ হার কমিয়ে আনতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেসকারি খাতের শুধু মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও এবি ব্যাংক ছাড়া কোনো ব্যাংকেরই স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে মিউচুয়াল ট্রাস্ট (এমটিবি) এর স্প্রেড ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আর এবি ব্যাংকের স্প্রেড হচ্ছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।
বেসরকারি খাতের ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্প্রেড হচ্ছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সিংহভাগ ব্যাংকের স্প্রেড গত মে শেষে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশের উপরে।
স্প্রেড সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বিদেশি ব্যাংকের। গত মে মাসে সর্বোচ্চ স্প্রেড হচ্ছে বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে স্টান্ডার্ড চার্টার্ডের ৯ শতাংশ।
সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে স্প্রেড হচ্ছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।