০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

“মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে,” বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 01:06 AM

Updated : 09 Oct 2026, 01:06 AM

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সন্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান বলে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে বলা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ”

“মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অস্পষ্টতা তৈরি না হয়।”

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রপতি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান, সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, অর্থ সম্পাদক মো. মনসুর আলী সরকার, কল্যাণ ও সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, দপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্য সচিব বীর প্রতীক মিজানুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গভবনে ড্যাফোডিলের প্রতিনিধি দল

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার মতো দক্ষ কর্মী তৈরির আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘‘সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত, দেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। ”

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও অসংখ্য গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে, তারপরও কেন দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা, বন্দর ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, এমনকি বেসরকারি কোম্পানি পরিচালনার জন্য বিদেশি কর্মী আনতে হবে— এমন প্রশ্নও তোলেন রাষ্ট্রপতি।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য, ডিন ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন, সচিব এজেএম সালাহউদ্দিন নাগরী ও প্রেস সচিব সরওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

কুরআন প্রতিযোহিতা বিজয়ীদের সাক্ষাৎ

৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বিজয়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মারকাযুল মদীনা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শেখ মো. মাহমুদুল হাসান (আশরাফী) ও সাউদা বিনতে জামআ’হ রা. আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন ‘‘ বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এমন সাফল্য অর্জন জাতির জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়।”