জিয়ার মরণোত্তর বিচার চাইল ‘মায়ের কান্না’

যাদের ‘অন্যায়ভাবে’ ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাদের তালিকা প্রকাশ করে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Feb 2024, 03:05 PM
Updated : 12 Feb 2024, 03:05 PM

বিদ্রোহ দমনের নামে ১৯৭৭ সালে সেনা ও বিমান বাহিনীতে কর্মরত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসি, কারাদণ্ড, গুম ও চাকরিচ্যুতির ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেছে নিহতদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের কান্না’। এই বিচারের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে সরকারের কাছে।

এর মধ্যে আছে, বিদ্রোহ দমনের নামে ‘অন্যায়ভাবে’ যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাদের সমাহিত করার জায়গা রাষ্ট্রীয়ভাবে চিহ্নিত করা; যাদের ‘অন্যায়ভাবে’ ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাদের তালিকা প্রকাশ করে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া; যাদের ফাঁসি, কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সর্বোচ্চ র‌্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বর্তমান স্কেলে বেতন-ভাতা-পেনশনসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা; জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা এবং জিয়াউর রহমানের ‘ভুয়া কবর’ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে অপসারণ করা।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনা প্রধানের দায়িত্ব আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে একটি অভ্যুত্থানে গৃহবন্দি হন জিয়া।

৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন, পরে দেশের প্রথম সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরের বছর তিনি রাষ্ট্রপতির পদও নেন।

জিয়া ক্ষমতা দখলের পর সামরিক বাহিনীতে অনেকগুলো বিদ্রোহ-অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়, যাতে জড়িতদের সামরিক আদালতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ডসহ নানা সাজা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে জাপানি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২ অক্টোবর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবে একটি অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহ দমনের নামে সামরিক আদালতে বিচারের নামে কয়েকশ মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছিল অনেককে। বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেন সেনা ও বিমানবাহিনীর বহু সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ‘মায়ের কান্না’র সভাপতি কামরুজ্জামান মিঞা, সাধারণ সম্পাদক নূরে আলমসহ নিহতদের পরিবারের কয়েকজন।