১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু: বিদেশি কূটনীতিকদের ইতিহাস জানালেন হাছান

ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “জেলখানায় বসে সহযোগীদের সঙ্গে সভা করে তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ দিবস পালিত হবে।”

ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু: বিদেশি কূটনীতিকদের ইতিহাস জানালেন হাছান

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিদেশি কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Feb 2024, 08:14 PM

Updated : 21 Feb 2024, 08:14 PM

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বুধবার আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রভাষা দিবস ও শহীদ দিবসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজন করে একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণ অনুষ্ঠানের। এতে যোগ দেন ঢাকায় বিদেশি দূতাবাসের কর্মীরা।

মন্ত্রী বলেন, “তখনকার তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময় ভাষার দাবিতে আন্দোলনের কারণেই জেলে বন্দি ছিলেন।

“জেলখানায় বসে সহযোগীদের সঙ্গে সভা করে তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন ২১ ফেব্রুয়ারি (১৯৫২ সাল) প্রতিবাদ দিবস পালিত হবে।”

হাছান বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ সকল ভাষা সংরক্ষণের প্রেরণা। আর বহুভাষার সংস্কৃতির মেলবন্ধন পৃথিবীতে শান্তি, সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”

Image

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজনে বক্তব্য রাখছেন হাছান মাহমুদ

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে জাতিসংঘে স্বীকৃত হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “কানাডা প্রবাসী দুজন বাঙালি রফিক ও সালামের উদ্যোগ এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্বরিত সিদ্ধান্তে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠানোর পর ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

 “এর মধ্য দিয়ে বাঙালির সেই আত্মত্যাগের দিনটি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষার দিন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং মানুষ বহুভাষাকে সযত্ন ধারণের প্রেরণা পেয়েছে।”

ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে 'বহুভাষায় শিক্ষা: শেখা এবং প্রজন্মান্তরের শিক্ষার সোপান' শীর্ষক অনুষ্ঠানে গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক নানা পরিবেশনা ছিল। রাশিয়া, ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের শিল্পীদের এসব পরিবেশনায় মুগ্ধ হন দর্শরা।

Image

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কূটনীতিকদের সঙ্গে তাদের সন্তানরাও

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অণুবিভাগের পরিচালক সামিয়া ইসরাত রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মাশ্ফী বিনতে শামসও বক্তব্য দেন।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি বাংলার পাশাপাশি পর্তুগিজ ও আরবিতে পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

সকালে বিদেশি কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে স্থাপিত শহীদ মিনারে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।