Published : 06 Apr 2023, 09:12 PM
ঢাকার সাভারের নীলা রায় হত্যা মামলায় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিয়েছেন এই স্কুলছাত্রীর ভাই অলক রায়।
বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস ওয়াহিদের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
এদিন জবানবন্দি শেষে অলক কাঠগড়ায় দাঁড়ানো প্রধান আসামি মিজানুর রহমানকে (২১) হত্যাকারী হিসাবে শনাক্ত করেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবী এবং আইন ও শালিস কেন্দ্রের আব্দুর রশীদ খান জানান।
পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী তাকে জেরা করেন; যা শেষ না হওয়ায় বিচারক আগামী ৩০ এপ্রিল অবশিষ্ট জেরার জন্য তারিখ রেখেছেন।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি এই আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন অলক রায়; ওইদিনও ঠিকানা বলার পর ‘নিহত তার বোন ছিলেন’ বলে আবেগে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরে আদালত ১৬ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখে।
আব্দুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য শুরুর পর আদালত ১৬ মার্চ দিন রেখেছিলেন। কিন্তু ওই দিন সাক্ষী অলক রায়ের পরীক্ষা থাকায় তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।
সাক্ষ্যের বরাতে এই আইনজীবী বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নীলা তার ছোট ভাই অলক রায়কে নিয়ে রিকশায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে মিজান গতিরোধ করেন।
“এরপর অস্ত্রের মুখে নীলাকে একটি গলির ভেতরে মিজানুরদের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। এ সময় মিজানুর অলককে বলে ‘তুই সরে যা’। পরে অলক দেখে যে নীলাকে কোপানো হচ্ছে।”
পুরানো খবর:
নীলা রায় হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিলেন বাবাএ সময় মিজানুরের হাতে ছুরি ও চাপাতি ছিল। তাদের চিৎকারে আশে পাশের মানুষ জড়ো হলে মিজানুর সবাইকে ছুরি-চাপাতির ভয় দেখিয়ে বলেন যে, কেউ এগিয়ে আসবেন না। পরে মিজান পালিয়ে যান।
পরে নীলা ও তার ভাইয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। তারা নীলাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে মামলার বাদী নীলার বাবা নারায়ণ রায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এদিকে ওই ঘটনার পরই কারাগারে থাকা মিজানুর ও তার বাবা-মাকে আসামি করে সাভার থানায় হত্যা মামলা করেন নারায়ণ রায়। গ্রেপ্তারের পর মিজানুর হাকিমের কাছে ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্বাপর বিস্তারিত বর্ণনা করে ১ অক্টোবর ঢাকার বিচার বিভাগীয় হাকিমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন।
পরে তদন্ত শেষে মিজানসহ তিনজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তবে মিজানের বাবা আব্দুর রহমান (৬০) এবং মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাকে (৫০) মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয় অভিযোগপত্রে।
জামিনে থাকা অপর দুই আসামি সাকিব হোসেন (২০) ও সেলিম পাহলান (৪২) আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
ওই মামলায় উল্লেখ করা হয়, ‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভার পৌরসভার পালপাড়া এলাকায় নীলাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়।
মানিকগঞ্জ জেলার বালিরটেক এলাকার নারায়ণ রায়ের মেয়ে নীলা সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ত।
পুরানো খবর:
নীলা রায় হত্যা: অভিযোগপত্রে আসামি মিজানুরসহ ৩ জনপুরানো খবর:
সাভারের স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যার বিচার শুরু