২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নীলা রায় হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিলেন বাবা

জবানবন্দিতে নীলার বাবা সেদিনের ঘটনা তুলে ধরেন এবং আসামিদের শাস্তি চান।

নীলা রায় হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিলেন বাবা
স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরী।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Oct 2022, 09:43 PM

Updated : 31 Oct 2022, 09:43 PM

সাভারের স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে তার বাবা, মামলার বাদী নারায়ণ রায়ের জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে।

সোমবার ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস ওয়াহিদের আদালতে সাক্ষ্য দেন বাদী নারায়ণ রায়। তার বক্তব্য শুনে আগামী ২৩ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ রেখেছেন বিচারক।

জবানবন্দিতে নীলার বাবা সেদিনের ঘটনা তুলে ধরেন এবং আসামিদের শাস্তি চান। পরে আসামিপক্ষে তাকে আংশিক জেরা করা হয়।

বাদীর আইনজীবী আইন ও শালিস কেন্দ্রের আব্দুর রশীদ খান, এ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও মো. শাহজাহান শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী।

মামলার মূল আসামি মিজানুর রহমানকে কারাগার থেকে (২১) আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্য আসামি সাকিব হোসেন (২০) ও সেলিম পাহলানও (৪২) আদালতে হাজিরা দেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভার পৌরসভার পালপাড়া এলাকায় নীলাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়।

মানিকগঞ্জ জেলার বালিরটেক এলাকার নারায়ণ রায়ের মেয়ে নীলা সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ত।

ওই ঘটনায় মিজান ও তার বাবা-মাকে আসামি করে সাভার থানায় হত্যা মামলা করেন নীলার বাবা নারায়ণ রায়।

মামলায় গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান চৌধুরী (২১) হাকিমের কাছে ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্বাপর বিস্তারিত বর্ণনা করে ১ অক্টোবর ঢাকার বিচার বিভাগীয় হাকিমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন।

তদন্ত শেষে মিজানসহ তিনজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। মিজানের বাবা আব্দুর রহমান (৬০) এবং মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকাকে (৫০) মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয় অভিযোগপত্রে।

সেখানে বলা হয়, ঘটনার আগে বছর দেড়েক ধরে নীলাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন সাভারের ব্যাংক কলোনির কলেজছাত্র মিজান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নীলা রিকশায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে মিজান ওই রিকশার গতিরোধ করেন।

এরপর অস্ত্রের মুখে নীলাকে রিকশা থেকে নামিয়ে একটি গলির ভেতরে নিয়ে তার গলায়, পেটে, মুখে ও ঘারে ছুরিকাঘাত করে মিজান পালিয়ে যান। মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নীলার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনা সে সময় সারা দেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার একটি ইটভাটার পাশ থেকে ওই বছরের ২৫ সেপ্টম্বর মিজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সে সময় মানিকগঞ্জের চারীগ্রাম এলাকা থেকে মিজানের বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তারা জামিন পান।