পাকিস্তানের ‘সাড়া জাগানো’ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে: সিইসি

“নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। এটার ভালো দিকও রয়েছে,” আসন্ন উপজেলা ও সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Feb 2024, 01:57 PM
Updated : 13 Feb 2024, 01:57 PM

পাকিস্তানের এবারের সাধারণ নির্বাচন সাড়া জাগিয়েছে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, দেশটির নির্বাচন অংশগ্রহণমূলকও হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীকে ভোট না করার বিষয়েও কথা বলেন সিইসি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৯ মার্চ হতে যাওয়া ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও কুমিল্লা সিটির উপ নির্বাচনেও প্রার্থীদের কাউকে দলীয় প্রতীক নৌকা বরাদ্দ দেবে না দলটি।

এমন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে সিইসি বলেন, নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার ভালো দিকও রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমিও গণমাধ্যমে দেখলাম-নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। এটার ভালো দিকও রয়েছে। এটা রাষ্ট্রীয় নির্বাচন নয়। এলাকাভিত্তিক নির্বাচন। এখানে মানুষ এলাকার লোককে নির্বাচিত করবেন, পুরো জাতির জন্য নয়।

“স্থানীয় সরকার স্থানীয় প্রশাসনের সীমিত এলাকায় ক্ষমতা থাকে, পরিপূর্ণ ক্ষমতা থাকে না। সেখানে বিভিন্ন দল, আমার মনে হয়, এখানে ওই সুযোগটা থাকবে।”

সিইসি বলেন, “আমি খুব বেশি বলতে চাই না, হয়ত পাকিস্তানের দৃষ্টান্তটা এসে যেতে পারে। এখানেও একটা নির্বাচন, এটা বেশ সাড়া জাগানো নির্বাচন হয়েছে।

“আমি বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। কিন্তু সেটাও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে- কোনো রকম প্রতীক ছাড়া বা প্রতীক ব্যতিরেকে বা বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে।”

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে নির্বাচন হয়। এতে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান-তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পার্লামেন্টে ৯২টি আসন পেয়েছে, আর পিএমএল-এন পেয়েছে ৭৯টি ও পিপিপি ৫৪টি। বাকি আসনগুলোতে ছোট ছোট দল বা অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনের আগে দলীয় প্রধান ইমরানের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। দল হিসেবে পিটিআই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি এবং দলীয় প্রতীক ‘ব্যাট’ নিয়ে ভোট করতে পারেনি দলটির প্রার্থীরা। পরে তারা ‘স্বতন্ত্র’ হিসাবে নির্বাচন করতে বাধ্য হয়।

সমালোচনার জায়গায় ছাড় নয়, সংবাদমাধ্যমকে সাহসী ভূমিকা চান সিইসি

সংবাদমাধ্যমকে সাহসী ভূমিকায় দেখতে চেয়ে সিইসি হাবিবুল আউয়াল বলেন, সমালোচনার জায়গায় ছাড় দেওয়া যাবে না। এটাই সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা।

“দেশের গণমাধ্যমের প্রতি যথেষ্ট আস্থাশীল। গণমাধ্যম আমাদের জাগ্রত করে রেখেছে। আমরা অনেক সময় চোখের পানিও ফেলি।…বস্তুনিষ্ঠতা এটা খুব কাম্য। জনগণকে সচেতন করা যে, কমিশন কতটা দায়িত্ব পালন করছে। সরকার কতটা সহায়তা করছে, কী করছে না, এগুলো প্রচার হলে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।”

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব যদি শক্তিশালী না হয়, তাহলে জাতীয় পর্যায়েও নেতৃত্ব শক্তিশালী হবে না। তৃণমূলের সংস্থাগুলোয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে। সেখানেও গণমাধ্যমের ভূমিকা আছে। সেখানে গণতন্ত্র কতটা কাজ করছে, কতটা কাজ করছে না, এগুলো তুলে আনতে হবে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, বড় বড় দল অংশ না নিলে নির্বাচন অবৈধ হয় না। তবে নির্বাচনের ন্যায্যতা, গ্রহণযোগ্যতা খর্ব হয়। 

Also Read: আরএফইডির সভাপতি সায়েম, সম্পাদক হুমায়ুন

Also Read: পাকিস্তানে সরকার গঠনে সহযোগিতার ঘোষণা পিএমএল-এন ও পিপিপির

Also Read: সরকার গড়তে ইমরানের দলের বিশেষ কমিটি গঠন

“আমরা খুবই খুশি হতাম-এটা নির্দ্বিধায় বলেছি, যদি নির্বাচনটা আরও অনেক বেশি অংগ্রহণমূলক হত। তাহলে ভোটার উপস্থিতি আরও বেশি হতো। আমরা চাই নির্বাচনটা সার্বজনীন হোক। আমরা যদি সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারি নির্বাচন আরও সুন্দর হবে।

আগামী দিনের নির্বাচন ও উপ-নির্বাচনগুলোকে খাটো দেখার অবকাশ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে অন্য নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।