সরকার গড়তে ইমরানের দলের বিশেষ কমিটি গঠন

কেন্দ্র, পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সরকার গঠনের কৌশল নিয়ে পরিকল্পনা করতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Feb 2024, 05:20 PM
Updated : 12 Feb 2024, 05:20 PM

পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচনের পর কেন্দ্র, পাঞ্জাবে এবং খাইবার পাখতুনখাওয়ায় প্রদেশে সরকার গঠনকে সামনে রেখে কৌশল ঠিক করতে বিশেষ একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেছে কারান্তরীণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠকের পর পিটিআই কোর কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিটিআই কোর কমিটি বিশেষায়িত কয়েকটি কমিটি গঠন করেছে। কেন্দ্র, পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সরকার গঠনের কৌশল নিয়ে পরিকল্পনা করতে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির কাজ হচ্ছে, ওই অঞ্চলগুলোতে সরকারি এবং পার্লামেন্টে অবস্থানের জন্য সুপারিশ করা। আর এই সুপারিশের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও পার্লামেন্টোরি পদের জন্য দ্রুত প্রার্থী মনোনয়ন করতে পার্টির প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে বিবৃতিতে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম জি নিউজের প্রদর্শিত ফলাফল অনুযায়ী, গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান-তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পার্লামেন্টে ৯২টি আসন পেয়েছে, আর পিএমএল-এন পেয়েছে ৭৯টি ও পিপিপি ৫৪টি।

এ অবস্থায় পিএমএল-এন ও পিপিপির মধ্যে জোট সরকার গঠনে সমঝোতা হলে নির্বাচনী ফলাফলে প্রথম স্থানে থাকা ইমরানের অনুসারীদের ক্ষমতার বাইরেই থাকতে হবে।

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান গহর আলী খান রোববার জানিয়েছেন, তারা জোট করার জন্য পিএমএল-এন বা পিপিপির কাছে যাবেন না। পাকিস্তানের দ্য ডন পত্রিকাকে তিনি বলেন, “ওই দুই দলের কারও সঙ্গে আমরা স্বস্তি বোধ করি না।” তাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করার চেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসা ভাল।

ইমরানের দলের স্বতন্ত্ররা সরকার গঠনের পথে একটি যে অসুবিধার সম্মুখীন তা হচ্ছে,  নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য নয়। পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ৭০টি আসন সংরক্ষিত। চূড়ান্ত ফলের পর দলের শক্তিমত্তা অনুযায়ী এই আসনগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, নওয়াজের দল ২০টি আসন পেতে পারে।

জাতীয় পরিষদের সংরক্ষিত আসন ভাগে না পেলে সরকার গঠনের দৌড়ে পিছিয়ে পড়বে ইমরান খানের দল পিটিআই। তাই সংরক্ষিত আসন পেতে অন্য দলের সঙ্গে জোট করা বা অন্য কোনও দলের সঙ্গে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পিটিআই।

পিএমএল-এন ও পিপিপি বাদ যাওয়ার পর পিটিআই এর সামনে এখন একটি বিকল্প হতে পারে জামায়াত-ই-ইসলামি (জেআই) এবং আরেকটি বিকল্প হতে পারে, মজলিস-ই-উয়াহদাতুল মুসলিমিন (এমডব্লিউএম)। পিটিআই এর ঊর্ধ্বতন এক নেতা রোবারই এই দলটির সঙ্গে পিটিআই এর হাত মেলানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানিয়েছিলেন।

পিটিআই এর একটি কৌশল হচ্ছে, সংরক্ষিত আসন পেতে পার্লামেন্টে একটি ছোট দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে একক একটি ব্লক গড়ে তোলা। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য যৌথ একজন প্রার্থীকে দাঁড় করানো।

সেক্ষেত্রে এমডব্লিউএম এর সঙ্গে জোট বাঁধাটাই সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও পিটিআই এর মিডিয়া উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফিকার বুখারি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ করে আসছেন পিটিআই এর নেতারা। এসব অভিযোগ নিয়ে সোমবার তারা প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির সঙ্গে দেখা করেন।

নেতারা দাবি করেন, দলকে চাপে রাখা, নির্বাচনী প্রতীক না দেওয়া এবং অসংখ্য নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের পরও পিটিআই সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে। সাধারণ মানুষ পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীদের ওপর আস্থা দেখিয়েছে।

এর আগে গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট আলভি পিটিআই-কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। কারণ, তারা জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন।