১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত, নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরার সুযোগ নেই

“এখন তারা (ট্রলার মালিক) আর সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে ফ্রিস্টাইলে মাছ ধরা চালাতে পারবেন না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Oct 2026, 05:49 PM

Updated : 17 Oct 2026, 05:49 PM

নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে বাধা না দেওয়ার হাই কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ওই আদেশ দেখিয়ে ট্রলার মালিকদের মাছ ধরার চেষ্টার অভিযোগে সরকারের আবেদনের শুনানি নিয়ে শনিবার এ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে ট্রলার মালিকরা হাই কোর্টের আগের আদেশ দেখিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরতে পারবেন না “

পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, চট্টগ্রাম ও খুলনা উপকূলীয় এলাকার ১৫ জন ট্রলার মালিক হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মাছ ধরতে গেলে কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের হয়রানি করে এবং মাছ, জাল ও ট্রলার আটকে দেয়।

গত ৬ জুলাই ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট রুল জারির পাশাপাশি ছয় মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রলার মালিকদের বেহুন্দি ও ভাসান জাল দিয়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে বাধা না দেওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ট্রলার মালিকরা যে পদ্ধতিতে মাছ ধরেন, তা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ—এই তথ্য তারা হাই কোর্টে উপস্থাপন করেননি বলে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে থাকা নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ট্রলার মালিকরা হাই কোর্টের ওই আদেশ দেখিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছিলেন। কোস্ট গার্ড বাধা দিতে গেলে তারা আদালতের আদেশ দেখিয়ে মাছ ধরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেন।

বিষয়টি কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে জানানোর পর সরকার আপিল বিভাগে আবেদন করে। শনিবার চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “এখন তারা আর সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে ফ্রিস্টাইলে মাছ ধরা চালাতে পারবেন না।”

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রউফ বলেন, বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছ ধরা ২০১৩ সাল থেকে সারা বছরের জন্য নিষিদ্ধ। আর ভাসান জাল দিয়ে ইলিশ আহরণ ২০২০ সাল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে এসব নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

শুনানিতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরার বিষয়টিও উঠে আসে।

অ্যাটর্নি জেনারেল কাজল বলেন, “বাংলাদেশে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও ভারতের অংশে তা চালু থাকায় বাংলাদেশের জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে রিট আবেদনকারীরা দাবি করেছেন।

“এ পরিস্থিতিতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হবে।”