বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ: আইনজীবী সারোয়ারকে তলব হাই কোর্টের
আগামী ২৬ নভেম্বর তাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
পিরোজপুরের এক বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রেস ব্রিফিংয়ের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারোয়ার হোসেনকে তলব করেছে হাই কোর্ট।
এ বিষয়ে আগামী ২৬ নভেম্বর তাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পিরোজপুরের ওই বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। অভিযোগের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এই আদেশ দেয়। সারোয়ার হোসেন এবং তার ব্রিফিংয়ের ভিত্তিতে সংবাদ প্রচার-প্রকাশকারী সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
আদেশের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্বপালনকারী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মাদ আরশাদ রউফ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেলোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মো. হানিফ, মারিয়া তানজিমাৎ, মাইনুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম।
আদেশ পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিহাব উদ্দিন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্প্রতি ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রেস ব্রিফ করেন। বেশ কিছু গণমাধ্যম সেই ব্রিফিং প্রচার-প্রকাশ করে। অভিযোগ প্রমাণের আগেই একজন বিচারিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন প্রচারণা সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তা ও আদালতের মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে। যে কারণে হাই কোর্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারোয়ার হোসেন ও তার ব্রিফিং প্রচার-প্রকাশকারী গণমাধ্যমের সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন।
“একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব অনলাইন মাধ্যম থেকে সারোয়ার হোসেনের প্রেস ব্রিফিংয়ের ভিডিও অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এ নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ‘লইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ’ নামে পোর্টালকে সারোয়ারের ব্রিফিংয়ের ভিডিও আদালতে সরবরাহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
আদালতের এই আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নোটিস ইস্যু হোক, তারপর আমি জবাব দেব। অসুবিধা নাই কোনো, আমি জবাব দেব।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে যা বলেছিলেন সারোয়ার
সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে গত বুধবার প্রেস ব্রিফিংয়ে সারোয়ার বলেন, বিচারক নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নিয়েছেন। বিচারক মিতুর বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার বরাবর অনুসন্ধানের আবেদন করেছেন। আবেদনের অনুলিপি আইনমন্ত্রী, আইন সচিব, ডিজি ডিজিএফআই, ডিজি এনএসআই, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং পিরোজপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালককে দিয়েছেন।
বিচারালয়কে ‘দুর্নীতিমুক্ত’ না করলে দেশে দুর্নীতির সঠিক বিচার সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারোয়ার হোসেন বলেন, “তার (বিচারক মিতু) বিরুদ্ধে যে তথ্য আসছে এবং ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নিয়েছি, সে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সে একজন নিকৃষ্ট দুর্নীতিবাজ বলে আমি মনে করি। সেই জন্য অনুসন্ধান চাচ্ছি।”
পরে বিষয়টি তদন্তের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও স্ট্যাটাস দেন এই আইনজীবী।
