যুক্তরাষ্ট্রে ‘অবৈধ ভোট’ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা
দেশটির নাগরিক না হয়েও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও দেশটির ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান (৩৩) নামে এ প্রবাসীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিসের মেরিল্যান্ড জেলা কার্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাসিবুর বাংলাদেশের নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, বিষয়টি জানার পরও ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত দেশটির নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচনে ভোট নেওয়া হয়। তবে হাসিবুর কোন অঙ্গরাজ্যে বা কোন ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মেরিল্যান্ড জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইজ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তসংস্থা এফবিআইয়ের বাল্টিমোর কার্যালয়ের বিশেষ এজেন্ট ইনচার্জ জিমি পল যৌথভাবে মামলার অভিযোগের বিষয়টি জানান।
তদন্তে এফবিআইয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগবিষয়ক সংস্থা আইসিইর ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের বাল্টিমোর কার্যালয় সহায়তা করেছে। মামলাটি পরিচালনা করছেন সহকারী অ্যাটর্নি ফিলিপ মোৎসে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে হাসিবুরের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এটি সর্বোচ্চ সাজার সীমা। ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে বাস্তবে সাজা সাধারণত সর্বোচ্চ নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে কম হয়ে থাকে।
মামলার বিচার শেষে সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাজা নির্ধারণসংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং আইনের অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস স্পষ্ট করেছে, অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসিবুরের বিরুদ্ধে আদালতে ‘ইনফরমেশন’ নামে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এটি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি অভিযোগ আনার একটি আইনি প্রক্রিয়া। তবে এ ধরনের অভিযোগ দাখিল আদালতের রায় নয় এবং এর মাধ্যমে অভিযুক্তের অপরাধ প্রমাণিত হয় না।
মামলাটির তদন্তে সহযোগিতার জন্য এফবিআই ও আইসিইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেরিল্যান্ড জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইজ।
