কলাবাগানে শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
নিজ বাসায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সে গলায় ফাঁস দেয় বলে দাবি করেছে পরিবার।
রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন হাতিরপুল এলাকায় গলায় ওড়না প্যাঁচানো ফাঁস লাগানো অবস্থায় ৮ বছর বয়সি এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাসায় সে গলায় ফাঁস দেয় বলে দাবি করেছে পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত আবু হাসানের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার বর্ধমানপাড়া গ্রামে। বাবার নাম ইসলাম উদ্দিন। হাসানের পরিবার গত এক মাস ধরে হাতিরপুল এলাকার ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। তিন ভাইবোনের মধ্যে হাসান ছিল দ্বিতীয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহতের মামা রায়হান মিয়া দাবি করেন, “হাসান ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। সে চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তাকে ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হলেও সে সেখানে থাকতে চাইত না। পরবর্তীতে তাকে গ্রামে নিয়ে আরেকটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হলে সে কান্নাকাটি শুরু করে।
“ছেলের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বাবা তাকে এক মাস আগে আবার ঢাকায় নিয়ে আসেন। হাসান তখন থেকে পরিবারের সাথেই হাতিরপুলের বাসায় ছিল। সন্ধ্যার একটু পর ঘর ফাঁকা ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানালা দিয়ে তালাবদ্ধ রুমের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।”
হাসানের মামা বলছেন, “সে বিকেলে মাঠে খেলতে গিয়েছিল। সেখানে সহপাঠীদের সঙ্গে মারামারি হয়। বাসায় ফিরলে এটা নিয়ে মা ও বোন হাসনকে বকাঝকা করেন এবং পুলিশের ভয় দেখানো হয়। এই অভিমান থেকে সে আত্মহত্যা করতে পারে।”
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, প্রাথমিক সুরতহালে লাশে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
