গ্রাম-শহরের যে ‘প্রভেদ’ দেখাচ্ছে এইচএসসির ফল
ঢাকা মহানগরের বাইরে একই বোর্ডের অধীন ১৩টি জেলার মধ্যে গাজীপুর ও নরসিংদী ছাড়া অন্য কোনো জেলায় পাসের হার ৬০ শতাংশ অতিক্রম করেনি। সারাদেশেও গ্রাম ও শহরের চিত্রটা এমনই।
সারাদেশে পরীক্ষা হয়েছে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে, খাতাও দেখা হয়েছে একই ‘নিক্তিতে’; কিন্তু এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের হিসাবে গ্রাম-শহরের মধ্যে পার্থক্যটা বেশ বড়।
চট্টগ্রাম মহানগরে যেখানে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ, সেখানে ওই জেলার বাকি অংশের অংকটা মাত্র ৪৫ দশমিক ৫৯ ভাগ। পার্থক্য ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ পয়েন্টের।
চট্টগ্রাম মহানগরীর সঙ্গে চট্টগ্রাম বোর্ডের অন্য চার জেলার তুলনা করলে আরও বাজে পরিস্থিতিই সামনে আসে। খাগড়াছড়িতে পাস করেছে মাত্র ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী আর রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।
কক্সবাজারে ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশের বিপরীতে বান্দরবানে উচ্চ মাধ্যমিকের বৈতরণী পার হতে পেরেছে মাত্র ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী।
শুধু চট্টগ্রাম বোর্ড নয়, সারাদেশে গ্রাম ও শহরের চিত্রটা এমনই। ফলাফল বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যার বেশিরভাগই মহানগরগুলোকে কেন্দ্র করে।
ফলাফলের এমন পার্থক্যের মধ্য দিয়ে গ্রাম ও শহরের মধ্যে বড় রকমের বৈষম্যের চিত্র ফুটে আসার কথা বলছেন শিক্ষা খাতের বিশ্লেষকরা। গভীর গবেষণার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করে দীর্ঘমেয়াদে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাদের।
দেশের সব মহানগরের সঙ্গে প্রান্তিক অঞ্চলের ফলাফলের এমন প্রকট থাকার কথা তুলে ধরে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেছেন, “সিলেট মহানগরের সঙ্গে আপনি যদি শ্রীমঙ্গলের চা বাগান তুলনা করেন, ওই একই চিত্র।
“তার মানে হচ্ছে, আমরা সবাই বলতে চেষ্টা করছি যে, গ্রাম-শহর এবং সচ্ছল-অসচ্ছলদের মধ্যে যে বৈষম্য, সেটা প্রকট হয়ে উঠেছে এই রেজাল্টের মধ্য দিয়ে। এটা একেবারেই জাজ্বল্যমান হয়ে গেছে। এটাই বোঝা যাচ্ছে।”
গ্রাম-শহরের মধ্যে শিক্ষক সংখ্যায় ফারাক ও শিক্ষকদের শহরকেন্দ্রিক হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনকে এমন পার্থক্য গড়ে দেওয়ার কারণ হিসাবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি নীতি না থাকার কারণে সরকার বিক্ষিপ্ত নানা উদ্যোগ নিলেও তা সেভাবে কাজে আসছে না। ২০১০ সালের যে শিক্ষানীতি সেটি এখন কার্যকর না। আবার নতুন নীতিও নাই। ফলে নীতিগত শূন্যতা শিক্ষা খাতে রয়েছে।
“বিএনপি ক্ষমতায় আসলে শিক্ষা সংস্কার কমিশন করার কথা বলেছিল। কমিশন করে একটা নীতি করবে। নীতির আলোকে অন্যান্য কাজগুলা করতে হয়। কিন্তু আমরা দেখলাম, সরকার বিক্ষিপ্তভাবে করছে। এই রেজাল্টের পেছনে আমি এই সরকারকে দায়ি করছি না। কারণ এটা দীর্ঘদিনের ফসল। আমাদের দীর্ঘদিনের গ্যাপ, পলিসি গ্যাপ।”
পাসের হার ৭৯ এর বিপরীতে ১৯
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এইচএসসির ফলে ঢাকা মহানগরীতে পাস করেছে শতকরা ৭৯ দশমিক ৩৩ ভাগ শিক্ষার্থী। আবার মহানগরের বাইরে ঢাকার জেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে এই হার ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ মহানগরের বাইরে পাসের হার কমেছে কমেছে ২১ দশমিক ৪৮ শতাংশ পয়েন্ট।
এর বিপরীতে ঢাকার লাগোয়া মানিকগঞ্জ জেলায় পাসের হারে নেমেছে সবার নিচে; ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।
সব মিলে ঢাকা বোর্ডের চার জেলার পাসের হার ৪০ থেকে ৪৩ শতাংশের ঘরে। শরীয়তপুরে ৪১.৮৫ শতাংশ, রাজবাড়ীতে ৪০. ৮২ শতাংশ, মাদারীপুরে ৪১.৮৫ শতাংশ, গোপালগঞ্জে ৪২.৭৩ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জে ৬১.৪৯ শতাংশ, গাজীপুরে ৫৭.৮৫, মুন্সীগঞ্জে ৬৬.৬১ শতাংশ, কিশোরগঞ্জে ৫০.৭৪ শতাংশ, টাঙ্গাইলে ৪৯.৭৬ শতাংশ, ফরিদপুরে ৪১.০৫ শতাংশ, নরসিংদীতে ৪৫.৭৯ শতাংশ।
অর্থাৎ ঢাকা মহানগরের বাইরে একই বোর্ডের অধীন ১৩টি জেলার মধ্যে গাজীপুর ও নরসিংদী ছাড়া অন্য কোনো জেলায় পাসের হার ৬০ শতাংশ অতিক্রম করেনি।
বৈষম্যের চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয় বোর্ডভিত্তিক বিভিন্ন জেলার ফল বিশ্লেষণ করলে। ঢাকা মহানগরীতে এক লাখ ১১ হাজার ১১৯ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যেখানে পাসের হার ৭৯ শতাংশের বেশি, সেখানে রাজশাহী বোর্ডের অধীন নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সেই হার মাত্র ১৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
সীমান্তবর্তী ওই উপজেলায় পরীক্ষা দেওয়া ৩২২ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬৩ জন উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েছেন। এর মধ্যে কারও ভাগ্যে জোটেনি এ-প্লাস।
যশোর বোর্ডের পুরো নড়াইল জেলায় এইচএসসিতে ৫০১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৫ দশমিক ৭১ শতাংশ পাস নম্বর পেয়েছে। আর পাস করা মোট ১ হাজার ৭৭৬ জনের মধ্যে মাত্র ১১২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫।
পাসের হারে এমন পার্থক্য গড়ে দেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষক পাওয়া যায় না ক্লাস নেওয়ার জন্য। আবার ঢাকা শহরে শিক্ষকরা অলস সময় কাটায়, ক্লাস নিতে পারে না। অর্থাৎ বদলি হয়ে তারা চলে আসে ঢাকায়। এমনকি সরকারি কলেজের ক্ষেত্রেও এটা আছে।
“যদি খোঁজ নেন, দেখবেন যে অ্যাটাচমেন্টের নামে দরকার নাই, শিক্ষক সব এখানে চলে আসছে। নড়াইল, নওগাঁ কিংবা মানিকগঞ্জে দেখবেন, সেখানে শিক্ষক দরকার ৫০ জন, আছে ১৫-১৬ জন। একজনই হয়ত ২০০ জনকে, ১৫০ জনকে পড়াচ্ছে। আর এখানে (ঢাকা মহানগর) পড়ে আছে। যার কারণে একটা বৈষম্য তো হচ্ছে। এটা হল এক ধরনের বৈষম্য। শিক্ষকদের ঘাটতি এবং কম-বেশির একটা বৈষম্য।”
দক্ষ শিক্ষকদের গ্রামে থাকতে অনাগ্রহের কথা তুলে ধরে এই গবষেক বলেন, “কারণ আমাদের সব সুযোগ-সুবিধা শহরকেন্দ্রিক। তার কারণে তারা পরিবার নিয়ে শহরকেন্দ্রিক চলে আসতে চায়।
“যেমন, আমাদের ডাক্তাররা থাকতে চায় না এরকম। সবাই চলে আসে, মূল শহরগুলোতে প্র্যাকটিস করে। শিক্ষকরাও এরকম টিউশন করতে পারে, অন্যান্য প্রজেক্ট আছে। ভালো শিক্ষকরা এদিকে চলে আসে। একেবারে নাই এমন না, মানে পরিমাণটা কম। যার কারণে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়।”
অর্থনৈতিক কারণও এর পেছনে থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী উপকূলীয়, সীমান্তবর্তী বা প্রান্তিক এলাকায় বাস করে। সামর্থের কারণে তাদের সন্তানরাও পেছনে পড়ে যায়।
“তারা অ্যাফোর্ড করতে পারে না। যেমন, আইসিটি এবং ইংরেজিতে বেশি ফেইল করেছে। দেখবেন যে, (সন্তানকে) ডিভাইস কিনে দেওয়ার মত সক্ষমতা তো নাই সবার। আবার ঢাকায় কিংবা মহানগরে যারা আছে, এমনিতেই স্কুল-কলেজে তারা পর্যাপ্ত শিক্ষকও পায়, তুলনামূলকভাবে ডিভাইসও বেশি পায়।”
কুমিল্লা বোর্ডের কুমিল্লা জেলায় যেখানে পাসের হার প্রায় সাড়ে ৫৩ শতাংশ, সেখানে তলানিতে থাকা নোয়াখালীর পাসের হার শতকরা মাত্র ৩৮ দশমিক ৯০ ভাগ।
যশোর বোর্ডের অধীন ১০ জেলার মধ্যে যশোর জেলায় প্রায় ৫৩ শতাংশ পাসের হারের বিপরীতে তলানিতে পড়া নড়াইল জেলায় এই হার ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। পার্থক্য ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ পয়েন্ট।
আবার ময়মনসিংহ বোর্ডে এইচএসসির ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কিন্তু জেলাভিত্তিক তুলনা করলে ময়মনসিংহ জেলার থেকে বাকি অন্য তিন জেলা বেশ দূরে। যেমন ময়মনসিংহ জেলায় শতকরা ৫৯ দশমিক ৩৩ ভাগ পাসের বিপরীতে জামালপুর ও নেত্রকোণায় পাসের হার ৪৩ শতাংশের ঘরে।
জামালপুরে ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ আর নেত্রকোণায় ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে পেরেছে। মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা শেরপুরের পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, শীর্ষে থাকা ময়মনসিংহের সঙ্গে নিম্ন পর্যায়ে থাকা জামালপুরের দূরত্ব প্রায় ১৬ শতাংশ পয়েন্টের।
সাড়ে ১৩ হাজারের বিপরীতে ৩২১৭
ঢাকা মহানগরীর সঙ্গে ঢাকা বোর্ডের অন্য জেলাগুলোর পাসের বিস্তর পার্থক্যের মধ্যে উঠে আসছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হিসাবও।
শিক্ষার্থীদের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা বোর্ডের মোট ১৩ জেলায় যত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশই ঢাকা মহানগরীর। ঢাকা মহানগর থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক লাখ ১১ হাজার ১১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮ হাজার ১৫৪ জন পাস করেছে।
ঢাকার মহানগরীর বাইরের ঢাকা জেলার অন্য এলাকা এবং অন্য ১২ জেলা মিলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীর কলেজগুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৮২ জন। মহানগরীর বাইরে ঢাকা জেলা এবং অন্য ১২ জেলা মিলে জিপিএ-৫ মিলেছে সর্বমোট ৩ হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থীর।
এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডের চার জেলার (শরীয়তপুর ৩৫, রাজবাড়ী ৫৪, মুন্সীগঞ্জ ৫৫, মাদারীপুর ৫৮) জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ থেকে ৮৭ এর ঘরে। মহানগরীর বাইরে ঢাকার জেলার অন্য এলাকায় এ-প্লাস জুটেছে মাত্র ৩৮৪ জন শিক্ষার্থীর।
এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট জিপিএ-পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন। আর মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে এ সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।
ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এবার যে সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, তা দেশের পাঁচটি বোর্ডের পাওয়া শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি। এবার নটরডেম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২২৯ জন শিক্ষার্থী; যা ময়মনসিংহ বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ১৩৭ জনের চেয়ে বেশি।
এরপর কুমিল্লায় ১ হাজার ৩১৩ জন, সিলেটে ১ হাজার ২০৪ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৯৫০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কারিগরি বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন।
জিপিএ-৫ এবং পাসের হারের ক্ষেত্রে গ্রাম-শহরের এই প্রভেদের কারণ খুঁজতে সমন্বিত গবেষণার পরামর্শ দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী।
তিনি বলেন, “আপনি-আমি অনুমাননির্ভর বা কিছু কিছু বিশ্লেষণ করে বলতে পারি। কিন্তু যারা ভুক্তভোগী, তারা বলুক কী ঘটনা ঘটেছে ওইসব কলেজে। শিক্ষক নাই, নাকি অবকাঠামো নাই? নাকি ল্যাব নাই?
“তাহলে তো বুঝতে হবে, শিক্ষক থাকলেও ল্যাব ব্যবহার পারেন না। অথবা ইংরেজি পড়াতে পারেন না, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক নাই। এগুলো তো দেখার দরকার আছে। একেবারে একটা বিস্তারিত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ দরকার।”
থাইল্যান্ডের উদাহরণ টেনে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, “সেখানে যে স্কুলগুলা একেবারে খারাপ করে, এদেরকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। তারপরে বলে যে ‘আইসিইউ নেক্সট ইয়ার’। এরপর এদের পেছনে বিশ্লেষণ করে, যা যা লাগবে সব দেবে।”
এক ও দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়াটা স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ বর্ণনা করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ মেয়াদে এগিয়ে যেতে সমন্বিত গবেষণা এবং কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, একটা পলিসি গাইডলাইন দরকার।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, “শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, ভবিষ্যতে আর এগুলো যাতে না হয়।”
শিক্ষকদের গ্রামে রাখতে ‘ম্যাপিং সিস্টেম’ চালুর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “কোথায় শিক্ষক কম আছে, এটার ম্যাপিং থাকবে। প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষক থাকবে না, এটা হবে না। এরকম সুযোগ-সুবিধা সব কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক, শহরকেন্দ্রিক হবে; অন্য জায়গায় কম হবে, এটা হবে না। এটা হবে শিক্ষার্থী অনুযায়ী। শিক্ষার্থীর হার অনুযায়ী আমরা শিক্ষক দেব।
“আমরা সুযোগ-সুবিধা দেব, অবকাঠামো দেব, সবকিছু। এগুলার মধ্যে যে অসম অবস্থা বিদ্যমান, তার মধ্যে সমতা আনা লাগবে।”
