০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মিরপুরে মজুরি আন্দোলন: শ্রমিকদের দুই দফা সরিয়ে দিল পুলিশ, দুই দিনে গ্রেপ্তার ২৯

“আমাদের কাছে যারা আইন অমান্য করছে, আইন লঙ্ঘন করছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি করতে চাচ্ছে বা করছে, তারা আমাদের দৃষ্টিতে অপরাধী।”

মিরপুরে মজুরি আন্দোলন: শ্রমিকদের দুই দফা সরিয়ে দিল পুলিশ, দুই দিনে গ্রেপ্তার ২৯

মিরপুর ১৪ নম্বরে এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ লাগোয়া সড়কে সোমবার নামার চেষ্টা করেন পোশাক শ্রমিকরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 02:06 PM

Updated : 02 Nov 2026, 02:13 PM

মাসিক বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের ঢাকার মিরপুরের সড়কে সোমবার নামতেই দেওয়া হয়নি। এদিন দুই দফায় শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

মিরপুর ১৪ এলাকায় শ্রমিকদের এক দফা ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে মিরপুর ২ এলাকায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।

বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শনি ও রোববার ডিএমপির মিরপুর বিভাগের থানাগুলোতে পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শ্রমিকদের সড়কে নামার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া এবং গ্রেপ্তারের তথ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে তিনি বলেন, “আজ শ্রমিকরা দুই দফায় রাস্তায় নামার চেষ্টা করেছিল। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

সকাল ১১টার দিকে মিরপুর ৬ নম্বরের শিয়ালবাড়ী ও পূরবী এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিক মিরপুর ২ হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের তরফে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

দুপুর ১২টার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয় দোকানি ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্রমিকরা শিয়ালবাড়ী মোড় থেকে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মিরপুর ২ থেকে শিয়ালবাড়ী মোড় পর্যন্ত সড়কের স্টেডিয়াম গেটের সামনে পুলিশের একটি আধপোড়া লেগগার্ড পড়ে আছে। সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কয়েকটি ইটের টুকরাও।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকায় জড়ো হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

রোববারের বিক্ষোভে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া, একটি গাড়ি ভাঙচুর এবং একটি ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনায় মিরপুর বিভাগের বিভিন্ন থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার বলেন, “মামলা আরও হবে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯ জন গ্রেপ্তার ছিল। আজ দুপুর পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

এর আগে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড প্রিভেনশন-উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “এই শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুষ্কৃতিকারী, যারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে, যারা আইন লঙ্ঘন করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করতে চায়, তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

“যেই হোক, আমাদের কাছে যারা আইন অমান্য করছে, আইন লঙ্ঘন করছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি করতে চাচ্ছে বা করছে, তারা আমাদের দৃষ্টিতে অপরাধী। আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।”

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কোনো অপরাধীর বিশেষ কোনো পরিচয় নাই। যারা আইন অমান্য করছে, আইন অমান্য করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বা সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তারা আমাদের দৃষ্টিতে অপরাধী। আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।”

এদিন দুপুরের দিকে মিরপুর ১, মিরপুর ২, মিরপুর ১১ নম্বরের গার্মেন্ট-অধ্যুষিত এলাকাগুলো ঘুরে শ্রমিকদের দৃশ্যমান কোনো উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে পূরবী এলাকার বিভিন্ন গলি ও সরু পথে শ্রমিকদের ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে থাকতে দেখা গেছে।