ঢাকা-বরিশাল গ্রীন লাইন লঞ্চ ‘আপাতত’ বন্ধ

কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে যাত্রী কমে যাওয়ার পাশাপাশি মেরামতের প্রয়োজনের কারণে এ সিদ্ধান্ত।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবরিশাল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 10:00 AM
Updated : 26 July 2022, 10:00 AM

ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ এমভি গ্রীন লাইন-৩ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে যাত্রী কমে যাওয়ায় এবং মেরামতের প্রয়োজনের কারণে লঞ্চটি আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে গ্রীন লাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপক লক্ষণ চন্দ্র জানিয়েছেন।

ঢাকার সদরঘাট থেকে সকাল ৮টায় লঞ্চটি বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যেত। বরিশাল থেকে বিকাল ৩টায় ফের ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করত। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকেই লঞ্চটি ছাড়েনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে লক্ষণ চন্দ্র বলেন, মেরামতের জন্য গ্রীন লাইন-৩ ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করবে না। তবে সদরঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৮টার গ্রীনলাইন-২ ভোলা রুটে যায়ায়াত করবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “মেরামতের কারণ ছাড়া যাত্রীও কম। তবে এই বন্ধ সাময়িক।”

গ্রীন লাইনের বরিশাল কাউন্টারের সেলস অফিসার মো. সজীব জানান, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরিশাল-ঢাকা রুটের গ্রীন লাইন-৩ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

বছর পাঁচেক আগে দিনের বেলায় ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার জন্য এই ‘ডে-সার্ভিস’ চালু হয়েছিল। ৭৫০ জন যাত্রী বহন করতে পারে এই লঞ্চগুলো।

এখন যাত্রী সংকটে লঞ্চটি আপাতত বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন গ্রীন লাইনের বরিশাল কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. হাসান সরদার বাদশা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসা যাওয়ায় মোট ৬০০ যাত্রী হলে ব্যয় উঠানো সম্ভব। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর আসা-যাওয়ায় ২০০ যাত্রীও পাওয়া যায় না।”

নিজেদের রুট পারমিট বাতিল করেছেন কি না- জানতে চাইলে গ্রীন লাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপক লক্ষণ বলেন, “না না। আবার চালু করব, এটা সাময়িক।”

সদরঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক হুমায়ূন কবির বলেন, মঙ্গলবার গ্রীনলাইন ডে সার্ভিস লঞ্চটি ছেড়ে যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ এর কারণ জানায়নি। বুধবারও না ছাড়লে কারণ জানতে চাইব এবং কতদিন বন্ধ থাকবে লিখিতভাবে জানতে চাইব।

হুমায়ূন বলেন, “তাৎক্ষণিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শিডিউলভুক্ত লঞ্চের যাত্রা বিরতি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে গ্রীনলাইন মেরামতের কারণ ছাড়াও যাত্রী কমের জন্য কি না তা জানায়নি।”

যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, “এসময় যাত্রী সংখ্যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে কমই থাকে। সোমবার সদরঘাট থেকে ৯৫টি লঞ্চ আর রোববার ৯৭টি লঞ্চ ছেড়ে যায় বিভিন্ন গন্তব্যে।

“সুতরাং এতগুলো লঞ্চতো আর এমনি এমনি ছেড়ে যায়নি, যাত্রী আছে, একটু কম।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক