Published : 21 Feb 2024, 05:11 PM
খতনা করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই চিকিৎসককে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলেছে আদালত।
বুধবার ঢাকার তাদেরকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক রুহুল আমিন।
অন্যদিকে তাদের রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন চান ঢাকা বারের সভাপতি মিজানুর রহমান মামুন।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদেশ দেন মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী।
দুই চিকিৎসক হলেন মালিবাগের চৌধুরীপাড়ার জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের পরিচালক এস এম মুক্তাদির ও মাহাবুব মোরশেদ।
মঙ্গলবার রাতে মেডিকেল সেন্টারটিতে যারা যায় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া আহনাফ তাহমিন আয়হান।
এ ঘটনায় তার বাবা ফখরুল আলম হাতিরঝিল থানায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৩ থেকে চারজনকে আসামি করে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়, ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ১০ বছর বয়সী আহনাফের খতনা করাতে চিকিৎসক এস এম মুক্তাদিরের কাছে নিয়ে যান তিনি। চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা লিখে দেন।
হাসপাতালেই পরীক্ষাগুলো করিয়ে ছেলেকে নিয়ে বাসায় চলে যান ফখরুল। রাতে চিকিৎসক ফোন করে জানান, রিপোর্ট ভালো এসেছে। খতনা করতে কোনো সমস্যা নেই।
পরদিন রাত পৌনে ৮টায় স্ত্রী খায়রুন নাহারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাসপাতালে যান তিনি।
আহনাফকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর তার বাবা-মাকে আসামিরা জানান, ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগবে। আধা ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর ওটির দরজায় নক করলে বলা হয়, ‘আরও কিছুক্ষণ সময় লাগবে।’
এভাবে এক ঘণ্টা পার হয়ে যায়। তখন ফখরুল ওটিতে ঢুকতে চাইলে তাকে নিষেধ করে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলা হয়।
সন্দেহ হলে ফখরুল জোর করে ঢুকে দেখতে পান, তার ছেলে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তার নাকে ও মুখে নল দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, চিকিৎসকরা বুকে হাত দিয়ে চাপাচাপি করছেন।
আহনাফের বাবা লিখেন, চিকিৎসক এস এম মুক্তাদিরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সঠিক উত্তর দেননি।
মামলায় বলা হয়, ছেলের এই অবস্থা দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ফখরুল। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে কর্ণপাত না করে বুকে চাপাচাপি ও হাত-পা মালিশ চালিয়ে যান। তাকে জোর করে ওটি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আহনাফের বাবা লিখেন, দুই ঘণ্টা পার হলেও ছেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তথ্য না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন চিকিৎসকরা। এরপর জোর করে ওটিতে প্রবেশ করে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে মারা গেছে।
মামলার পর দুই চিকিৎসক এস এম মুক্তাদির ও মাহাবুব মোরশেদকে বুধবার সকালে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হাতিরঝিল থানার ওসি আওলাদ হোসেন মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খতনা করানোর পর জ্ঞান ফিরে এলেও আহনাফ বমি করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।”
বুধবার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমুহ) আবু হোসেন মোহাম্মদ মইনুল আহসান।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের সব কার্যক্রম বাতিল করেছি। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স ছিল, তা বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কাল এটা হয়ে যাবে। মেডিকেল সার্ভিস দেওয়ার অনুমোদন ছিল না। এ ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খতনা করাতে গিয়ে দুই মাসেরও কম সময় এটি ঢাকায় দ্বিতীয় মৃত্যু। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনার জন্য অজ্ঞান করা হয়েছিল শিশু আয়ান আহমেদকে।
খতনা করানোর পর ১১ ঘণ্টায়ও তার সংজ্ঞা না ফিরলে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে এনে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়। সাত দিন সেখানে থাকার পর গত ৭ জানুয়ারি আয়ানকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আরো পড়ুন:
খতনায় শিশুর মৃত্যু: চিকিৎসা সেবার অনুমোদনই ছিল না জে এস ডায়াগনস্টিকের
খতনা করাতে গিয়ে ঝরল আরেক শিশুর প্রাণ, ২ চিকিৎসক গ্রেপ্তার
আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় ‘ব্যথিত’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিলেন বিচারের আশ্বাস
খতনার জন্য অচেতন করা শিশু আয়ান আর ফিরল না
আয়ানের মৃত্যু: স্বাস্থ্যের প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট হাই কোর্ট, তদন্তে নতুন কমিটি