Published : 04 Jun 2026, 12:48 AM
জ্বালানি তেলের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যায়িত করে এর প্রতিবাদ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
বুধবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বিবৃতিতে একাধিক রাজনৈতিক দল সরকারের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মধ্যে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ‘দুর্বিষহ’ করে দেবে।
বুধবার রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেন সংস্থার চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাহকের খরচ বাড়ছে ১৬.৭ শতাংশ। পাইকারি বিদ্যুতের ভারিত গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩১ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩১ পয়সা করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জ ইউনিটপ্রতি ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা করা হয়েছে। এতে সঞ্চালন চার্জ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
আর খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রাহকশ্রেণির বিদ্যুতের ভারিত গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে খুচরা পর্যায়ে গড় দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিদ্যুতের নতুন দাম জুন মাসের বিল থেকে কার্যকর হবে।
গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এরইমধ্যে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের সব মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
জামায়াতের জোট সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক কেন্দ্রীয় নেতাও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, বিদ্যুতের মূল্য ইস্যুতে তারা কর্মসূচি দিতে পারেন।
নানা খাতে চলমান ‘অর্থনৈতিক দূরাবস্থার’ মধ্যে বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধিকে সরকারের ‘স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি বলেন, “বাজেটের আগে তড়িঘড়ি করে আবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিতে এমনিতেই যখন সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে, তখন বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে দেবে।”
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে সাইফুল হক অভিযোগ করেন, বিইআরসি পাইকারি ও ভোক্তাপর্যায়ে বাজেটের আগে এই মূল্যবদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ দেখাতে পারেনি।
পৃথক বিবৃতিতে খেলাফত মজলিস আমির আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূমও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ করেছেন।