Published : 10 Jul 2025, 08:58 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটে অনিয়মের জন্য নির্বাচন কমিশনের হাতে ‘পুরো আসনের ভোট বন্ধ’ করার ক্ষমতা ফেরানোর পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন।
বৃহস্পতিবার অষ্টম কমিশন সভা শেষে সিইসির এই অবস্থান তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “কেন্দ্র বাতিলের সক্ষমতা ইসির ছিল; যেটা ছিল না সেটা হচ্ছে পুরা নির্বাচনি আসনের বন্ধ করার ক্ষমতা।
“যেটা একসময় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এটাও আমরা ফেরত পাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তাব করেছি এবং আশা করি আমরা এটা ফেরত পাব।”
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ আইন, হলফনামা, ইসি সচিবালয় আইন, পোস্টাল ব্যালট, ইভিএম, দল নিবন্ধন অগ্রগতি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণসহ সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ আমলে নিয়ে তা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে ইসি।
এদিন সকাল ১১টার পরে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসি নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ কমিশন সভা হয়। চার নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন-ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিকাল ৫টায় কমিশন সভার সার্বিক সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের তুলে ধরেন নির্বাচন আবুল ফজুল মো. সানাউল্লাহ।
সভায় আরপিও সংশোধন প্রস্তাবনা আলোচ্যসূচিতে থাকলেও তা শুধুমাত্র উপস্থাপন করা হয়, কিন্ত বিস্তারিত আলোচনা এগোয়নি। পরবর্তী বৈঠকে শুধু গণপ্রতিনধিত্ব আদেশের সংশোধন অধ্যাদেশ নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হবে বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার।
পুরনো ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে চায় ইসি
ভোটে অনিয়ম হলে পুরো নির্বাচনি আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা ফিরে পেতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের প্রস্তাব রাখার পক্ষে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টাও ভোটে অনিয়ম রোধে আইনের দিকটা খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন বুধবার।
পরের দিনই ইসি বলছে, এ ধরনের প্রস্তাবে কমিশনেরও সম্মতি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “কোন নির্দিষ্ট আসনের নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি। পুরো আসনের নির্বাচন বন্ধের ক্ষমতা আমাদের আগে ছিল। সেটা বাদ দেওয়া হয়েছিল। এখন আমাদের কেন্দ্রের ভোট বাতিলের ক্ষমতা আছে।”
সবশেষ গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনে ভোট বন্ধ করে দেয় তৎকালীন ইসি।
তিনি বলেন, “কেন্দ্র বাতিলের সক্ষমতা ইসির ছিল; যেটা ছিল না সেটা হচ্ছে-পুরো নির্বাচনি আসনের নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা। যেটা একসময় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এটাও আমরা ফেরত পাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তাব করেছি এবং আশা করি আমরা এটা ফেরত পাব।”
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেছেন, “আরেকটা বিষয় আলোচনা হয়েছে যে, এর আগে আপনারা দেখেছেন যে নির্বাচন কমিশন আমরা গত সরকারের আমলে একটা উপনির্বাচনের সময় দেখেছিলাম যে, নির্বাচন কমিশন একটা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নির্বাচনকে পর্যবেক্ষণ করে ওই পুরো একটা আসনের নির্বাচনকে বাতিল করে দিয়েছিল।
“এর প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে আইন সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনের এই ক্ষমতাটা খর্ব করা হয়েছে। তারা শুধুমাত্র এখন নির্দিষ্ট কেন্দ্রে নির্বাচন বাতিল করতে পারেন।
“নির্বাচন কমিশনের এই ক্ষমতাটা ফিরিয়ে দেওয়া যায় কিনা–কোনো নির্দিষ্ট আসনে যদি ব্যাপক অনিয়ম হয়, নির্বাচন কমিশন সেই আসনের পুরো নির্বাচনটাকে বাতিল করতে পারে কিনা–সে বিষয়ে আইনের দিকটা খতিয়ে দেখার জন্য প্রধান উপদেষ্টা আজকে উপস্থিত যারা কর্মকর্তা ছিলেন, তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।”
নির্বাচন বাতিল করা সংক্রান্ত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয় গণপ্রতনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯১ ধারায়।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে সংসদে আরপিওর এই ধারায় সংশোধনী পাস হয়। তাতে কমিশনের কিছু ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছিল।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বল প্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্যকোনো কারণে পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে মনে করলে নির্বাচন কমিশন শুধু নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে নতুন নির্বাচন দিতে পারে।
আগে ৯১ (এ) উপধারায় বলা ছিল, নির্বাচন কমিশন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে নির্বাচনে বল প্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সংগত ও আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না, তাহলে যেকোনো ভোটকেন্দ্র বা ক্ষেত্রমত সম্পূর্ণ নির্বাচনি এলাকায় নির্বাচনের যেকোনো পর্যায়ে ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে।
সংশোধনীতে আরপিওর ৯১ ধারার (এ) উপধারায় ‘ইলেকশন’ শব্দের বদলে ‘পোলিং’ শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়। তখন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘ইলেকশন’ শব্দ দিয়ে পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়া বোঝায়। অর্থাৎ তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সময়টা হল ‘ইলেকশন’। আর ‘পোলিং’ হল শুধু ভোটের দিন। ‘ইলেকশন’ শব্দটি থাকলে ভোটের আগেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন ভোট বন্ধ করতে পারত।
কিন্তু সংশোধনী পাসের কারণে কমিশনের ক্ষমতা খর্ব হয়। সে শুধু ভোটের দিন ভোট স্থগিত করতে পারবে।
অন্যদিকে আরপিওর ৯১ (এ) উপধারা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল।
রিটার্নিং অফিসার ফল ঘোষণার পর তা কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। কমিশন সচিবালয় গেজেট প্রকাশ করে। রিটার্নিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা করার পর গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ফলাফল স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে কি না, সেটি পরিষ্কার ছিল না।
এ কারণে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য হাবিবুল আউয়াল কমিশন এই বিধানের সঙ্গে আরেকটি উপধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কমিশন বলেছিল, কোনো অনিয়ম, জোরজবরদস্তি, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এলে নির্বাচন কমিশন কোনো ভোটকেন্দ্র বা পুরো আসনের ভোটের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। এরপর অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে কোনো ভোটকেন্দ্র বা পুরো আসনের ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন দিতে পারবে।
তবে তখনকার মন্ত্রিসভায় কমিশনের প্রস্তাবিত বিধানটিতে বদল এনে বলেছিল, যেসব ভোটকেন্দ্রে অভিযোগ আসবে কমিশন শুধু সেগুলোতে ভোটের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। সেভাবেই আইনটি সংসদে পাস হয়েছিল।

তরুণদের বুথ ও ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেছেন, তরুণদের জন্য আলাদা একটা ভেটার তালিকা করার কোনোই প্রয়োজন নেই। যদি লাগে সেটা দেখা যাবে।
ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি তুলে ধরেন।
ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা সহজীকরণের প্রসঙ্গ টেনে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, নারীর জন্য আলাদা বুথ তো থাকে; সন্তান সম্ভবা মা, সিনিয়র সিটিজেন, অসুস্থদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
"পাশাপাশি যদি আমরা একটা তরুণ জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য, ভোটের প্রতি যারা বিমুখ হয়ে গেছেন, এ ধরনের যদি কোনো প্রস্তাব থাকে আমরা অবশ্যই বিবেচনা করে দেখব। আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।"
তিনি বলেন, "তরুণ ভোটারদের জন্য বুথ করার আলোচনাটি কী হয়েছে শুনে নিই। গণমাধ্যমে আপনারা যা জেনেছেন, আমিও তাই।... কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।”
ভেট প্রস্তুতি শেষ হলে রোজার আগে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সূচি ধরে এগোনোর যে ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার তাতে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের ‘আলাদা তালিকা ও বুথ করার’ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মাদ ইউনূস।
বুধবার নির্বাচনের বিষয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ একটি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এমন নির্দেশনা দেওয়ার কথা পরে রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তুলে ধরেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
হলফনামায় তথ্য সংযুক্তি
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার সময় হলফনামায় কিছু নতুন সংযুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার বিবরণ শুধু ২০ বছরের নয়, বরং আজীবনের তথ্য হলফনামায় যুক্ত করতে হবে।
৪৪ লাখ ভোটারের সম্পূরক খসড়া আগামী সপ্তাহে
এবার ২০ জানুয়ারি বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশন। এ হালনাগাদে বাদ পড়া প্রায় ৪৪ লাখ ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে।
সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিগগিরই সম্পূরক ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করা হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, এরপর দাবি, আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে অগাস্টের মধ্যে হালনাগাদ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
“এবার প্রায় ৪৪ লাখ ৬ হাজার ৬০২ জন বাদ পড়া ভোটার আমরা পেয়েছি, যারা নতুন করে নিবন্ধন করেছে। মৃত ভোটার পেয়েছি ২১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯০ জন। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আশা করি, আগামী সপ্তাহে সম্পূরক খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে।”
বর্তমানে নারী ও পুরুষ ভোটারের ব্যবধান কমে এসেছে। এটা প্রায় ১৮ লাখ।
ইসি সার্ভিস চালু করার প্রস্তাব ও অন্যান্য
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংশোধন অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়োগের জন্য নির্বাচন কমিশন সার্ভিস নামে একটি সার্ভিস হবে। সংস্কার কমিশনও এ ধরনের প্রস্তাব করেছে। এ সার্ভিস না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধিতেই চলবে। এছাড়া ১৯৯১ সালে নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ আইনেও ছোট ছোট সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে।
“ইসি কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষমতা পুনঃঅর্পণের বিষয়েও কিছু সংশোধন প্রস্তাব আনা হয়েছে।”
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সংশোধনের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, গত সাত মাসে ৯ লাখ আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এখন মাত্র ৭৪ হাজার অপেক্ষমান রয়েছে।
এনআইডি সংশোধনে ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে জটিলতা কমানোর প্রক্রিয়ার কথাও বলেছেন এই নির্বাচন কমিশনার।
সীমানা চূড়ান্ত পর্যায়ে, আসন সংখ্যা কমবে না
৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানার খসড়া প্রকাশের উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন পেলে শিগগিরই খসড়া প্রকাশ করা হবে।
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২২১টা আসনের বিষয়ে কোনো আবেদনই হয়নি। আশা করি, আগামী সপ্তাহে পুরো প্রকাশ হবে।”
ঢাকায় আসন সংখ্যা খুব বেশি কমবে না বলে জানান তিনি।
জনসংখ্যার ভারসাম্য আনার পাশাপাশি ভোটার সংখ্যার সমতা এনে আসন বিন্যাসের কথা তুলে ধরে সানাউল্লাহ বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভোটার তালিকা, যেটা জনসংখ্যার বাই প্রোডাক্ট। টেকনিক্যাল কমিটির কাছে রেফার করেছি। আগামী সপ্তাহে আপডেট জানাবো।”
ইতোমধ্যে ঐকমত্য কমিশনে বিশেষায়িত কমিটির মাধ্যমে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ এসেছে। বাস্তবতার নিরিখে কতটুকু করা যাবে, তা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
নিবন্ধন অগ্রগতি
নতুন দল নিবন্ধন আবেদন যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে যেসব আবেদন সঠিক রয়েছে তা মাঠ পর্যায়ে যাচাই বাছাই চলছে আর যাদের আবেদনে সামান্য ত্রুটি রয়েছে তাদের তথ্য পূরণে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
এবার ১৪৪টি দল নিবন্ধন চেয়ে ১৪৭টি আবেদন করেছে।
আইনজীবি প্যানেল ‘পুনর্বিবেচনা’
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশনের আইনজীবি প্যানেল ‘পুনর্বিবেচনা’ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ নিয়েও আগামীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
শাপলা রাখা হয়নি প্রতীক তালিকায়
সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত নতুন তালিকা নিয়ে বিধিমালা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে সেক্ষেত্রে শাপলা প্রতীক প্রস্তাব করা হয়নি।
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “শাপলা প্রতীক চেয়ে দুটি দল- নাগরিক ঐক্য ও এনসিপি আবেদন করেছে। ইসি সব বিবেচনায় করে শাপলা তালিকাভুক্ত করেনি।”
আসছে পোস্টাল ব্যালট, বাদ ইভিএম
সানাউল্লাহ বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবার ভোট দেবে। ভোট পদ্ধতি পোস্টাল ব্যালট। সীমাবদ্ধতা কাটাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পোস্টাল ব্যালট। নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনলাইন আবেদন করবে। সময় বাঁচাতে এবার ব্যালট পেপার প্রিন্ট হওয়ার পর বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটারের কাছে পাঠানো হবে।”
রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশে ইভিএম না রাখার কথা বলেন তিনি।
“আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি-ইভিএম সামনে কোনো নির্বাচনে ব্যবহার হবে না।”
আরও পড়ুন:
সংস্কার: আরপিও, নির্বাচন কর্মকর্তা আইন সংশোধনসহ এক গুচ্ছ সুপারিশ