Published : 02 Feb 2026, 12:39 PM
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতির আরও দুই মামলার রায় দিয়েছে আদালত; শেখ হাসিনার সঙ্গে এবার তার ভাগ্নে ও দুই ভাগ্নিকেও দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলা দুটির একটি আওয়ামী লীগ সভাপতির ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির প্লট দুর্নীতির অভিযোগে, অন্যটি ববির ছোট বোন আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তীর প্লট নিয়ে। তাদের দেওয়া হয়েছে সাত বছর করে কারাদণ্ড।
তাদের খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই মামলায় পাঁচ বছর করে ১০ বছর এবং তাদের বোন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপের দুই বছর করে ৪ বছর কারাদণ্ড হয়েছে।
ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম সোমবার এ দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অভিযোগ ছিল, ঢাকা শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরেও ‘সেই তথ্য গোপন করে আইন ভেঙে দুর্নীতির মাধ্যমে’ রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার একটি করে প্লট বরাদ্দ নেন। শেখ হাসিনা ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে বোনকে প্লট বরাদ্দে ‘সহায়তা’ করেন। এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক তার ভাই-বোনকে প্লট পাইয়ে দিতে খালা শেখ হাসিনাকে ‘প্রভাবিত’ করেন।
দুদকের দায়ের করা এ দুই মামলাতেই ১৮ জন করে আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি খুরশীদ আলমের এক বছর করে ২ বছর সাজা হয়েছে। বাকি আসামিদের দেওয়া হয়েছে ৫ বছর করে কারাদণ্ড।
আসামিদের সবাইকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে। সেই সঙ্গে ববি ও রূপন্তীর নামে পূর্বাচলের দুই প্লটের বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ের সময় খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। হাসিনা, রেহানা, টিউলিপসহ বাকিদের পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে। ফলে তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা লড়ার সুযোগ পাননি।
রায়ের পর দুদকের কৌঁসুলি খান মো. মঈনুল হাসান লিপন বলেন, “আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। সেটা হয়নি। কমিশনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”
ববির মামলায় কার কী সাজা
|
আসামি |
পরিচয় |
সাজা |
|
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি |
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নে |
৭ বছরের কারাদণ্ড |
|
শেখ হাসিনা |
সাবেক প্রধানমন্ত্রী |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
টিউলিপ সিদ্দিক |
শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি |
২ বছরের কারাদণ্ড |
|
মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন |
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
শরীফ আহমেদ |
সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
মো. শহীদ উল্লা খন্দকার |
সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
কাজী ওয়াছি উদ্দিন |
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
পূরবী গোলদার |
গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
সাইফুল ইসলাম সরকার |
গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
মোহাম্মদ খুরশীদ আলম |
রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
আনিছুর রহমান মিঞা |
রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন |
রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী |
রাজউকের সাবেক সদস্য |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
তন্ময় দাস |
রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
শেখ শাহিনুল ইসলাম |
রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
নায়েব আলী শরীফ |
রাজউকের সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
মাজহারুল ইসলাম |
রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
ফারিয়া সুলতানা |
রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
** আসামিদের সবাইকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। |
||
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।
এ প্রেক্ষাপটে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে’ রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে হাসিনা পরিবারের ১০ কাঠার ছয়টি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক।
এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
গত ৩১ জুলাই ছয় মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠ করেন আদালত। এর মধ্যে হাসিনা পরিবারের তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হয় গত ২৭ নভেম্বর। আর ১ ডিসেম্বর দেওয়া রেহানার প্লট দুর্নীতির মামলার রায়।
এ চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। জয় ও পুতুলকে দেওয়া হয় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড। এছাড়া শেখ রেহানার ৭ বছর এবং তার মেয়ে টিউলিপের ২ বছরের সাজা হয়েছে। সোমবারের দুই মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে প্লট দুর্নীতির ছয় মামলারই রায় ঘোষণা করা হলো।
রূপন্তীর মামলায় কার কী সাজা
|
আসামি |
পরিচয় |
সাজা |
|
আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তী |
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নে |
৭ বছরের কারাদণ্ড |
|
শেখ হাসিনা |
সাবেক প্রধানমন্ত্রী |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
টিউলিপ সিদ্দিক |
শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি |
২ বছরের কারাদণ্ড |
|
মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন |
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
শরীফ আহমেদ |
সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
কাজী ওয়াছি উদ্দিন |
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
পূরবী গোলদার |
গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
অলিউল্লাহ |
গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
সাইফুল ইসলাম সরকার |
গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
মোহাম্মদ খুরশীদ আলম |
রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
আনিছুর রহমান মিঞা |
রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন |
রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী |
রাজউকের সাবেক সদস্য |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
তন্ময় দাস |
রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
নুরুল ইসলাম |
রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
নায়েব আলী শরীফ |
রাজউকের সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
কামরুল ইসলাম |
রাজউকের সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
মাজহারুল ইসলাম |
রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) |
৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
** আসামিদের সবাইকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। |
||
ববির মামলা বৃত্তান্ত
বিগত সরকারের আমলে পূর্বাচলের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর সড়কের আশপাশের এলাকায় শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর নামে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ববির প্লট নম্বর ১১, রূপন্তীর প্লট নম্বর ১৯ এবং শেখ রেহানার প্লট নম্বর ১৩। আর শেখ হাসিনার প্লট নম্বর ৯, জয়ের ১৫ নম্বর এবং পুতুলের প্লট নম্বর ১৭।
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেদিনই ভারতে পালিয়ে যান তিনি। তার পরিবারের অন্যরাও দেশের বাইরে।
ওই সময় থেকেই একের পর এক মামলা হতে থাকে থানা ও আদালতে। ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পাঁচ স্বজনের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ছয়টি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
তার আগে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হাসিনার পরিবারের নামে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় হাই কোর্ট। একইসঙ্গে এ কমিটিকে আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে) রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করতে বলা হয়।

ববির প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করে শেখ হাসিনা, টিউলিপসহ ১৬ জনের নামে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। তিনি তদন্তে নাম আসা সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উদ্দিনসহ ১৮ জনের নামে ১০ মার্চ অভিযোগপত্র জমা দেন।
পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তাতে কাজ না হলে আসামিদের আদালতে হাজির করতে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবুও তারা আদালতে হাজির হননি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ৩১ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
গত ১৩ অগাস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়, সেদিন সাক্ষ্য দেন বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা এস এম রাশেদুল হাসান। এরপর ২৮ অগাস্ট তিনজন, ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচজন, ২১ সেপ্টেম্বর একজন এবং ৬ অক্টোবর ৬ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর ২ নভেম্বর চারজন এবং ৯ নভেম্বর ৭ জন সাক্ষ্য দেন। ৮ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন, যা শেষ হয় ১৩ জানুয়ারি।
এদিকে শেখ পরিবারের ছয় মামলার আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ২৯ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
১৩ জানুয়ারিতেই আসামি খুরশীদ আলমের আত্মপক্ষ শুনানি শেষ হয়। ১৮ জানুয়ারি রাখা হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য। ওইদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন ২ জানুয়ারি রাখা হয়।
ববির প্লট মামলা: কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি: রাজউকের এখতিয়ারভুক্ত ঢাকাসহ শহরতলীতে নিজের ফ্ল্যাট থাকার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন। তিনি এক্ষেত্রে বোন টিউলিপ, খালা শেখ হাসিনা ও তার দপ্তর, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউক কর্মকর্তাদের সহায়তা নেন।
টিউলিপ সিদ্দিক: তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সর্বোচ্চ কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। ববির প্লট বরাদ্দে টিউলিপ তার ‘বিশেষ ক্ষমতা’ ব্যবহার করে খালা শেখ হাসিনার ওপর চাপ প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখেন।
শেখ হাসিনা: তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ববিকে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজউক আইন লঙ্ঘন করেন। তিনি ও তার দপ্তরে একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন যোগসাজশ করে নিজে ও অপরকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধানের দপ্তরের একটি নথি বিনষ্ট করেছেন অথবা গায়েব করেছেন।
এছাড়া অপর আসামিরা ববিকে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ দিয়ে নিজেরা লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

রূপন্তীর মামলা বৃত্তান্ত
রূপন্তীর নামে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করে শেখ হাসিনা, টিউলিপসহ ১৬ জনের নামে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
তদন্তে পাওয়া সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ ১৮ জনের নামে ১০ মার্চ অভিযোগপত্র জমা দেন কেয়া।
পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তাতে কাজ না হলে আসামিদের আদালতে হাজির করতে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবুও তারা আদালতে হাজির হননি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ৩১ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
গত ১৩ অগাস্ট বাদী আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্যের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ২৮ অগাস্ট তিনজন, ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচজন, ২১ সেপ্টেম্বর চারজন এবং ৬ ও ১৬ অক্টোবর তিনজন করে সাক্ষ্য দেন। এরপর ২ নভেম্বর চারজন, ৯ নভেম্বর সাতজন এবং ৫ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে আফনান জান্নাত কেয়ার সাক্ষ্য শেষ হয়।
এ মামলায় কারাগারে থাকা একমাত্র খুরশীদ আলমের পক্ষে গত ৫ জানুয়ারি কয়েকজন সাক্ষীকে জেরা করা হয়। ১৩ জানুয়ারি খুরশীদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। ওইদিনই দুদক ও খুরশীদ আলমের যুক্তিতর্ক শেষ হয়; আদালত রায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দেয়।
রূপন্তীর প্লট মামলা: কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী: নিজ বা পরিবারের সদস্যদের রাজউক এলাকায় আবাসন সুবিধা থাকার কথা হলফনামায় গোপন করে এবং খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে কোনো আবেদন ছাড়াই রূপন্তী ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।
টিউলিপ সিদ্দিক: মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া গুলশানের একটি ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিক তার বোন রূপন্তীকে ২০১৫ সালে হস্তান্তর করেন। তবে সেই হস্তান্তরে যে নোটারি ব্যবহার করা হয় তা তদন্তে ‘ভুয়া’ প্রমাণিত হওয়ার কথা বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রূপন্তীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হলে ছোট বোন পূর্বাচলের প্লটের জন্য অযোগ্য হতেন বিবেচনায় কেবল নোটারি করে দেন।
শেখ হাসিনা: ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাগ্নি রূপন্তীকে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ দিয়ে পরিবারকে আর্থিকভাবে লাভবান করেছেন। তিনি ও তার দপ্তরে একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন যোগসাজশ করে নিজে ও অপরকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধানের দপ্তরের একটি নথি বিনষ্ট করেছেন অথবা গায়েব করেছেন।
এছাড়া অপর আসামিরা রূপন্তীকে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন
'প্লট দুর্নীতি': হাসিনা, টিউলিপ, ববির মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
'প্লট দুর্নীতি': হাসিনা, টিউলিপ, রূপন্তীর মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি