Published : 27 Nov 2025, 11:53 AM
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে একটি মামলায় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আরেক মামলায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঢাকা শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরেও ‘সেই তথ্য গোপন করে তারা আইন ভেঙে দুর্নীতির মাধ্যমে’ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা আকারের তিনটি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন।
ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার ওই তিন মামলার রায় ঘোষণা করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এবার তাকে দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হল।
তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবেক রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান, দুর্নীতির দায়ে যার সাজার রায় এল।
হাসিনা পরিবারের তিনজন ছাড়াও এ তিন মামলায় আরো ২০ জন আসামি ছিলেন, তাদের মধ্যে কেবল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার খালাস পেয়েছেন। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে কেবল রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আত্মসমর্পণ করে কারাগারে ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতকে সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করায় তাকে লঘু শাস্তি হিসেবে এক বছর করে তিন মামলায় ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা, তার ছেলে, মেয়েসহ বাকি আসামিদের পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে। ফলে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ তারা পাননি। তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে এক লাখ টাকা করে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে ৬ মাস করে ১৮ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড; পুতুল ও জয়কে দণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে তিন মামলায় দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খান মো. মাইনুল হাসান লিপন।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সাজা (যাবজ্জীবন) প্রত্যাশা করেছিলাম, তা হয়নি। কমিশনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”
অন্যদিকে গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি খুরশীদ আলমের আইনজীবী ছিলেন শাহীনুর রহমান। রায়ের পর তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
কার কী সাজা
|
আসামি |
পরিচয় |
সাজা |
|
শেখ হাসিনা |
সাবেক প্রধানমন্ত্রী |
তিন মামলায় ৭ বছর করে ২১ বছরের কারাদণ্ড |
|
সজীব ওয়াজেদ জয় |
শেখ হাসিনার ছেলে |
এক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল |
শেখ হাসিনার মেয়ে |
এক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
শরীফ আহমেদ |
সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী |
তিন মামলায় ৬ বছর করে ১৮ বছরের কারাদণ্ড |
|
মো. শহীদ উল্লা খন্দকার |
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব |
তিন মামলায় ৬ বছর করে ১৮ বছরের কারাদণ্ড |
|
কাজী ওয়াছি উদ্দিন |
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব |
তিন মামলায় ৬ বছর করে ১৮ বছরের কারাদণ্ড |
|
পূরবী গোলদার |
গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব |
তিন মামলায় ১ বছর করে ৩ বছরের কারাদণ্ড |
|
মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন |
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব |
দুই মামলায় ৬ বছর করে ১২ বছরের কারাদণ্ড |
|
মোহাম্মদ খুরশীদ আলম |
রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) |
তিন মামলায় ১ বছর করে ৩ বছরের কারাদণ্ড |
|
আনিছুর রহমান মিঞা |
রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান |
তিন মামলায় পাঁচ বছর করে মোট ১৫ বছরের কারাদণ্ড |
|
মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন |
রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) |
তিন মামলায় ৩ বছর করে মোট ৯ বছরের কারাদণ্ড |
|
সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী |
রাজউকের সাবেক সদস্য |
তিন মামলায় ৩ বছর করে মোট ৯ বছরের কারাদণ্ড |
|
শফি উল হক |
রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) |
এক মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড |
|
কবির আল আসাদ |
রাজউকের সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) |
এক মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড |
|
তন্ময় দাস |
রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) |
দুই মামলায় ৩ বছর করে মোট ৬ বছরের কারাদণ্ড |
|
নুরুল ইসলাম |
রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) |
দুই মামলায় ৩ বছর করে মোট ৬ বছরের কারাদণ্ড |
|
শেখ শাহিনুল ইসলাম |
রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) |
এক মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড |
|
কামরুল ইসলাম |
রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) |
এক মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড |
|
হাফিজুর রহমান |
রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) |
এক মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড |
|
হাবিবুর রহমান সবুজ |
রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) |
এক মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড |
|
মাজহারুল ইসলাম |
রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) |
এক মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড |
|
নায়েব আলী শরীফ |
রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) |
দুই মামলায় ১ বছর করে ২ বছরের কারাদণ্ড |
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে গত ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে’ রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক।
এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
হাসিনাকে আসামি করা হয় ছয় মামলাতেই। তার পরিবারের তিনটি মামলার বিচার চলে একসঙ্গে; আলাদা আদালতে রেহানা পরিবারের তিন মামলার বিচার একসঙ্গে চলে।
গত ৩১ জুলাই এসব মামলায় হাসিনা ও রেহেনা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে (বেশিরভাগই একাধিক মামলায় অভিযুক্ত) অভিযোগ গঠন করে আদালত।
চার মাসের মাথায় গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে হাসিনা পরিবারের মামলার রায়ের দিন ঠিক করা হয়। আর ২৫ নভেম্বর রেহানার পরিবারের এক মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১ ডিসেম্বর রায়ের দিন রেখেছে আদালত।

মামলা থেকে যেভাবে রায়গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেদিনই ভারতে পালিয়ে যান তিনি। তার পরিবারের অন্যরাও দেশের বাইরে।
ওই সময় থেকেই একের পর এক মামলা হতে থাকে থানা ও আদালতে। ২৬ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ছয়টি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
পূর্বাচলের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর সড়কের আশপাশের এলাকায় শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা এবং তার ছেলে-মেয়ে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের নামে প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা ১০ কাঠার প্লট (প্লট নম্বর ৯) বরাদ্দ পেয়েছেন। ২০২২ সালের ৩ অগাস্ট তার নামে রাজউক প্লটের বরাদ্দপত্র দেয়। সজীব ওয়াজেদ জয় (প্লট নম্বর ১৫) এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও (প্লট নম্বর ১৭) ১০ কাঠা করে প্লট পেয়েছেন। জয়ের বরাদ্দপত্র ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর দেওয়া হয় এবং ১০ নভেম্বর মালিকানা সংক্রান্ত রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। পুতুলের বরাদ্দপত্র দেওয়া হয় ওই বছরের ২ নভেম্বর।
শেখ রেহানাও ১০ কাঠার প্লট (প্লট নম্বর ১৩) বরাদ্দ পেয়েছেন। তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির (প্লট নম্বর ১১) এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর (প্লট নম্বর ১৯) নামেও একই পরিমাণের প্লট বরাদ্দ হয়েছে।
তার আগে অক্টোবর মাসে শেখ হাসিনার পরিবারের ছয় সদস্যের নামে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় হাই কোর্ট। একইসঙ্গে এ কমিটিকে আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে) রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করতে বলা হয়।
১৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন দুদকের উপ পরিচালক সালাহউদ্দিন। তদন্তে পাওয়া আরো চারজনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ১০ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
আর পুতুলের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তিনি ও তার মা শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ১২ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পুতুলের নিজের বা তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মালিকানায় ঢাকা শহরে রাজউকের এলাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা রয়েছে। এ তথ্য ‘গোপন’ করে রাজউকের আরেক প্রকল্প পূর্বাচল নতুন শহরে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন পুতুল। সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের ‘প্রভাবিত ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন’।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা একে অন্যের সঙ্গে ‘যোগসাজশ করে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার জন্য’ পুতুলের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
তদন্তে পাওয়া আরো দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে ১০ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া।
জয়ের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তিনি এবং তার মা শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ১৪ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। তদন্তে নাম আসা আরো দুজনসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে ২৪ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন রাশেদুল হাসান।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছেলের নামে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। অথচ জয় প্লট বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না।
চলতি বছর এপ্রিলে আদালত মামলার অভিযোগপত্রগুলো গ্রহণ করে শেখ হাসিনা, জয়, পুতুলসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তাদের গ্রেপ্তার করা গেল কি না, সেই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পুলিশকে জমা দিতে বলা হয়। তবে তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।
তাদের আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবুও তারা আদালতে হাজির হননি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে গত ৩১ জুলাই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। গত ১১ অগাস্ট মামলা তিনটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
শেখ হাসিনার মামলায় ১৭ খুরশীদ আলম আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি। ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। একইদিনে জয় ও পুতুলের মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ঠিক করে আদালত।
২৩ নভেম্বর হাসিনার মামলা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় এবং জয় ও পুতুলের মামলায় আত্মপক্ষ শুনানি ও যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন বৃহস্পতিবার ঠিক করা হয়।
তিন মামলায় কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
|
|
|
|
হাসিনার প্লট মামলা
|
শেখ হাসিনা: প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা নিজের মালিকানায় ও তার ছেলে, মেয়ে, বোন এবং বোনের দুই ছেলে-মেয়ের নামে ঢাকা শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরেও সেই তথ্য গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এতে বরাদ্দ সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে। |
|
জয়ের প্লট মামলা |
সজীব ওয়াজেদ জয়: রাজউক এলাকায় আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা হলফনামায় গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত আইন, বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে মা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। |
|
শেখ হাসিনা: তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে ছেলেকে প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দেন। এর মাধ্যমে পরিবারকে আর্থিকভাবে লাভবান করেছেন। |
|
|
পুতুলের প্লট মামলা |
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল: রাজউক এলাকায় আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা হলফনামায় গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত আইন, বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে মা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে রাজউকে কোনো আবেদন না করেই ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। |
|
শেখ হাসিনা: তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে ছেলেকে প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা করে দেন। এর মাধ্যমে পরিবারকে আর্থিকভাবে লাভবান করেছেন। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব থাকা অবস্থায় তার দপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের সঙ্গে যোগসাজস করে কার্যালয়ের একটি নথি নষ্ট করেছেন অথবা গায়েব করেছেন। |
|
|
** অন্য আসামিরা অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ দিয়ে ‘নিজে লাভবান হয়েছেন এবং অন্যকে লাভবান করেছেন’ বলে অভিযোপত্রে বলা হয়। |
|
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আপিলে তিনি দুই মামলাতেই খালাস পান।
তার আগে সাবেক সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এক ডজনের বেশি দুর্নীতির মামলার আসামি হন। তার মধ্যে জনতা টাওয়ারসহ একাধিক মামলায় তিনি হন দণ্ডিত।
পুরনো খবর
প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনা পরিবারের সাজা হবে? রায় বৃহস্পতিবার
'প্লট দুর্নীতি': ব্রিটিশ এমপি টিউলিপের সাজা হবে? রায় ১ ডিসেম্বর
'প্লট দুর্নীতি': হাসিনা, রেহানা ও সন্তানদের বিচার শুরু
‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে’ পূর্বাচলে শেখ হাসিনা ও জয়ের প্লট, দুই মামলা দুদকের
'ক্ষমতার অপব্যবহার' করে পূর্বাচলে পুতুলের প্লট, দুদকের মামলা
রেহানা ও ছেলেমেয়ের প্লটে অনিয়ম: দুদকের ৩ মামলায় হাসিনাও আসামি