Published : 23 May 2026, 06:10 PM
কোরবানির ঈদে ট্রেনযাত্রায় শিডিউল বিপর্যয়ের কোনো শঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেছেন রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, “বর্তমানে রেলের যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে ঈদযাত্রায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখছে না কর্তৃপক্ষ।”
শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন কমলাপুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রেলসচিব বলেন, “ঈদুল আজহার ঈদযাত্রা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন ট্রেনের শিডিউল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি।”
ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “গত ঈদুল ফিতরে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। তবে পশ্চিমাঞ্চলে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া এবং কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে দুর্ঘটনার মতো দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।”
লোকোমোটিভ সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন রেলসচিব বলেন, “মিটারগেজ লোকোমোটিভের কিছু সংকট রয়েছে। তাই আমরা আগে থেকেই কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি।
“ঈদের সময় ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ ৭৮ থেকে ৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে। কাল থেকে তা ৮০টির বেশি হবে বলে আশা করছি।”
ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলসচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে।”
স্টেশনে টিকেটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “টিকেট ছাড়া যাত্রীরা যাতে স্টেশনে ঢুকতে না পারে সেজন্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তারাই সাধারণত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।”
ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “যাত্রী চাপের কারণে এবারও ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে। ঈদের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করে, সেজন্য রেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, র্যাব ও আনসার সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
রেলসচিব বলেন, “কমলাপুর স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
“এছাড়া যাত্রীরা যেকোনো অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য রেলওয়ের ১৩১ হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।”