Published : 26 Apr 2026, 05:30 PM
নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা।
রোববার সকাল থেকে ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
মোহাম্মদ ইউনুস নামে এক আন্দোলনকারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সাড়ে ১৪ হাজার প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছেন।
"অনেকেই যোগদানের আশায় আগের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে ফল প্রকাশের আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগ বা পদায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সবাই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।"
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাতজনের একটি প্রতিনিধি দল দুপুরে সচিবালয়ে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি দল তাদের নিয়োগটি দ্রুত সম্পন্ন ও বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।
ববি হাজ্জাজ বলেন, "প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।"
তিনি ধৈর্য ও সংযম দেখিয়ে চলমান প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখতে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে আন্দোলন স্থগিত করার আহ্বান জানান।
তবে এ আহ্বানে সাড়া নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনে নামা মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, "আমরা সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর মন্ত্রী মহোদয় আমাদের নিয়োগ রিভিউ করার কথা বলছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের অবস্থান।
“কিন্তু আজ প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনায় আমরা কোনো ফল পাইনি। তাই আমাদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চলবে।”
তিনি বলেন, “সরকার যদি কোনো স্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করে, তাহলে তাহলে আমরা বাড়ি ফিরে যাব।"
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হয়; ফল বেরোয় ২১ জানুয়ারি।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ফেব্রুয়ারিতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত সুপারিশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো।
তপন শীল নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা কোনো কোটা ছাড়া পরীক্ষা দিয়ে সুপারিশ পেয়েছি। আমি একটা কোম্পানিতে চাকরি করতাম। সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।
“এখন যদি আমাদের সঙ্গে এভাবে তালবাহানা করা হয়, সেটা প্রতারণা করার মতো। আমরা দ্রুততম সময়ে আমাদের নিয়োগপত্র চাই।”