Published : 05 Jun 2026, 08:06 PM
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পুরোপুরি থামাতে কূটনৈতিক পথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
একইসঙ্গে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ‘বানচালের’ কোনো চেষ্টা চালানো তা রুখে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি।
শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করবে এমন পদক্ষেপ থেকে সব পক্ষকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। যুদ্ধ শেষ করার জন্য অভিন্ন সংকল্প প্রদর্শন করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতি বানচালের ইসরায়েলি প্রচেষ্টা ঠেকানো অপরিহার্য।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের প্রভাব সারাবিশ্বে ছড়ানোর কথা তুলে ধরে হাকান ফিদান বলেন, “ইরান যুদ্ধ আমাদের অঞ্চলের বাইরে গিয়ে পুরো বিশ্বকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। এক্ষেত্রে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় হওয়া অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই।
“আমরা আশা করি, এই আলোচনা সুনির্দিষ্ট ফলাফল বয়ে আনবে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থায় ফিরে আসাটা বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।”
যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কেবল আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধের সমাধান করা সম্ভব, এমন বোঝাপড়া থেকে আমরা আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছি। আমরা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গেও আমাদের মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছি।
“এই প্রেক্ষাপটে, আমরা যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী করার জন্য পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই এবং এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছি সক্রিয়ভাবে। আলোচনায় অগ্রগতি হলেও আমরা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে হাকান ফিদান বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য সমগ্র অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার।
“ইসরায়েল গাজায় তার সংঘটিত গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের ওপর গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে লক্ষ্যবস্তু করে প্রতিদিনই পশ্চিম তীরে একেকটি নতুন বেআইনি উদ্যোগ গ্রহণ করছে ইসরায়েল।”
লেবাননে ইসরায়েলের দখলদারত্ব ও হামলা পুরোপুরি বন্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ এবং এই অঞ্চলে যুদ্ধের পরিবেশ দূর করাই হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার। এই প্রেক্ষাপটে, লেবাননে ইসরায়েলি দখলদারত্ব ও আক্রমণের চূড়ান্ত অবসান ঘটানো এবং শান্তি ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।”
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক সংঘাতগুলো বৈশ্বিক গতিশীলতাকে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রভাবিত করছে।”