Published : 28 Apr 2026, 02:36 PM
সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে বহনকারী প্রিজন ভ্যান ‘দুর্ঘটনায় পড়েছিল’ দাবি করে তার আইনজীবী বলেছেন, আসামির চিকিৎসার জন্য তিনি আদালতে আবেদন করবেন।
সম্প্রতি ওই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটে বলে ভাষ্য পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখীর।
তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “সেদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় জুনাইদ আহমেদ পলকের হাজিরা ছিল। শুনানি শেষে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে যাওয়ার পথে আরেকটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। তিনি প্রিজনভ্যানের মধ্যে পড়ে যান। ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন। এখন তিনি এমআরআই করাতে চান। এজন্য আদালতে চিকিৎসা চেয়ে আবেদন করতে বলেছেন।
“তবে সময় স্বল্পতায় আজকে আবেদন করা হয়নি। আগামীকাল আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করব।"
তবে প্রিজন ভ্যান কোনো দুর্ঘটনায় পড়েনি বলে দাবি করেছেন কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘প্রকৃত বিষয় হল’ ১৯ এপ্রিলে প্রিজন ভ্যান পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে নিচে নামার সময় হার্ড ব্রেক করার কারণে ভেতরে থাকা চারজন ডিভিশনবন্দির মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক নিজেকে সামলাতে না পেরে অপরবন্দি ফজলে করিম চৌধুরীর সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে তিনি ঘাড়ে ‘সামান্য ব্যথা’ পান। এ বিষয়ে এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। কারো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি ।
মঙ্গলবার জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে ট্রাক চালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যা মামলায় হাজিরা দেন পলক।
ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য এদিন রাখা ছিল। কারাগারে থাকা পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানকে আদালতে হাজির করা হয়।
তবে অভিযোগ গঠন শুনানির বিষয়ে প্রস্তুতি না থাকায় সময় চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখীসহ কয়েকজন আইনজীবী।
আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে ২১ মে শুনানির পরবর্তী দিন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পলকের আরেক আইনজীবী তরিকুল ইসলাম।
আদেশের পর আসামিদের আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় পলক ‘দুর্ঘটনায় শিকার’ হওয়ার কথা বলেন বলে ভাষ্য আইনজীবী রাখীর।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনায় আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তি।
হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত করে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে আসামি করে গেল বছরের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।