Published : 18 Aug 2025, 07:47 PM
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে কাঠগড়ায় দেখে আদালতে বসে বসে কাঁদলেন স্ত্রী আসফিয়া উদ্দিন।
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় সোমবার সাথীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয় সাথীকে। তাকে রাখা হয় সিএমএম আদালতের হাজতখানায়। এজলাসে তোলা হয় বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে। এসময় নাসির উদ্দিন সাথীকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, হাতকড়া ও হেলমেট পড়ানো হয়।
এজলাসে তোলার সময় ফটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন আসফিয়া। তাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এসময় তার অন্য স্বজনদেরও কাঁদতে দেখা যায়। আসামির কাঠগড়ায় রাখা হয় নাসির উদ্দিন সাথীকে। এসময় আসফিয়া আদালতের ভেতর বেঞ্চে বসা ছিলেন। স্বামীর দিকে তাকিয়ে কাঁদতে থাকেন তিনি।
এরপর ঢাকার মহানগর হাকিম জিয়া উদ্দিন এজলাসে ওঠেন। বাদীপক্ষে মোছা. হাবিবা রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, এ আসামি আওয়ামী ও ছাত্রলীগের মত ‘মিডিয়া সন্ত্রাস’। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার’ সঙ্গে যোগসাজশে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তার সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।'
আসামিপক্ষে মোছা. ফারজানা আক্তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, “মামলার বাদী হলফনামা দিয়েছেন, এ আসামিসহ তিনজনের নাম দেওয়ার বিষয় তার নলেজে ছিল না। তথ্যগত ভুলের কারণে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। তিনি ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করছি।”
রাষ্ট্রপক্ষে শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানির একপর্যায়ে বিএনপিপন্থি দুই আইনজীবী তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়ে এজলাস ত্যাগ করেন।
শুনানির পুরোটা সময় আসফিয়া আদালতে বসে কাঁদতে থাকেন। তবে হাস্যোজ্জল ছিলেন নাসির উদ্দিন সাথী। তিনি স্ত্রীসহ অন্যদের সান্ত্বনা দেন। পরে তাকে আবার হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে রোববার গুলশান থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ অগাস্ট যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আসাদুল হক বাবু।
মামলাটি হয় গত বছরের ৩০ অগাস্ট; যাত্রাবাড়ী থানায়। বাদী হন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় নাসির উদ্দিন ২২ নাম্বার এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নাম্বার এজাহারনামীয় আসামি।
আরও পড়ুন
মাই টিভির চেয়ারম্যান সাথী ৫ দিনের রিমান্ডে
মাই টিভির চেয়ারম্যান সাথীকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় সিআইডি
মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী গ্রেপ্তার