এনবিআর ভাগের অধ্যাদেশ হচ্ছেই, ‘এটা ধরে নিতে হবে’: চেয়ারম্যান
আয়কর ও শুল্ক কর্মকর্তাদের “প্রতি মেসেজ, তাদেরকে এখন কাজে মনোযোগ দিতে হবে।”
বিরোধিতা থাকলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ জারি হচ্ছেই ‘বলে ধরে নিতে’ বলেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
রোববার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটা এখন আমাদের হাতে নাই। এটা তো লেজিসলেটিভে। যেহেতু এটা অনুমোদন পেয়ে গেছে, আমাদের ইয়ে থেকে, ক্যাবিনেট থেকে, এটা তো ধরে নিতে হবে যে হচ্ছে।”
এনবিআরকে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে আলাদা করতে গত ১৭ এপ্রিল খসড়া অধ্যাদেশে অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। বাকি প্রক্রিয়া শেষ করে তা দ্রুত জারি হওয়ার কথা বলছে সরকার।
অধ্যাদেশের খসড়া অনলাইনে এলে তা দেখে আয়কর ও শুল্ক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর ও শুল্ক কর্মকর্তারা।
আলাদা করার ক্ষেত্রে এনবিআরের কর্মকর্তারা যেসব মতামত সংস্কারের পরামর্শক কমিটিকে দিয়েছিলেন, তার ‘প্রতিফলন’ খসড়া অধ্যাদেশে না থাকার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
এমন প্রেক্ষাপটে রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে অধ্যাদেশের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন এনবিআর চেয়ারম্যান।
সাংবাদিকরা জানতে চান, নানা ধরনের আপত্তি ও দাবি থাকার পরও অধ্যাদেশটি জারি হবে কিনা?
জবাবে তিনি বলেন, “এটা আমাদের নীতি-নির্ধারণী মহল জানেন; স্যাররা জানেন। ওনারা এটা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।”
তিনি বলেন, “যেভাবে সেটা সবার সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য হয়, সেভাবে পরবর্তী সময় সংশোধন করা হবে।”
অধ্যাদেশ সংশোধনের সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “অরডিন্যান্স হলে এটা ইমপ্লিমেন্টেশনের জন্য কিন্তু প্রজ্ঞাপন লাগবে এবং অনেক প্রিপারেশন লাগবে।
“বিশেষ করে আমাদের যে সাংগঠনিক কাঠামো, এগুলো কমপ্লিট করতে অনেক সময় লাগবে। এবং সেগুলোয় তো সবার অ্যাগ্রিমেন্ট লাগবে। যতগুলো পক্ষ আছে; আমাদের অংশীজন আছে; সবাইকে একমত হতে হবে।”
আয়কর ও শুল্ক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তাদের প্রতি মেসেজ, তাদেরকে এখন কাজে মনোযোগ দিতে হবে।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের আগে ওই হোটেলে একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি), ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) ও জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) এ সেমিনার আয়োজন করে।
