Published : 10 Jun 2026, 05:37 PM
ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি মুরগি ও মাছের খাদ্য মানুষের শরীরে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার ও কিডনি রোগের মত জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে বলে জাতীয় সংসদে বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নিলোফার চৌধুরী জানতে চান, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোল্ট্রি ও ফিশ ফিড ক্যান্সারসহ জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কিনা। এমনটি হলে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বা নেবে কি না।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য; বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।”
মন্ত্রী বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এসব বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে কম খরচে পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরি করে থাকে।
“এ ধরনের খাদ্য খাওয়ানো মুরগির মাংস ও ডিমে বিষাক্ত ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’ জমা হয়, যা রান্নার তাপেও নষ্ট হয় না। এই মুরগি বা মাছ মানবদেহে প্রবেশ করলে তা থেকে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার এবং কিডনি নষ্ট হওয়ার মত মারাত্মক জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।”
এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে হাই কোর্টের নির্দেশের পর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থানান্তর কার্যকর করা হয়।
“সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে একটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চামড়া শিল্পের রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তা পরিবেশে ছড়িয়ে না পড়ে বা পোল্ট্রি ফিড তৈরিতে অবৈধভাবে ব্যবহার করা না যায়।”
হাজারীবাগ ও আশপাশের এলাকায় ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে র্যাব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান চালিয়েছেও বলে তথ্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অভিযানে অনেক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ট্যানারি বর্জ্য থেকে তৈরি পোল্ট্রি ফিডের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৈজ্ঞানিকভাবে একটি প্রমাণিত সত্য। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ট্যানারি স্থানান্তর ও দূষণ রোধে ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়েছে।”