Published : 23 May 2026, 10:44 PM
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পিপি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে আদেশ জারি করেছে।
মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীর বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলেছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক আসামি সোহেল আদালতে ‘দোষ স্বীকার করে’ জবানবন্দিতে দিয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
রামিসা হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।
আগামী এক মাসের মধ্যে শিশু রামিসার হত্যাকারীর ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বিকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
একই দিন ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও দ্রুত বিচারের জনপ্রত্যাশা পূরণের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ঈদের আগে ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ছুটির পরপরই অভিযোগ জমা দেওয়া হবে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, “দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ৪৯২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্লবী থানার মামলা নম্বর ৩৫, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(২)/৩০ তৎসহ ২০১ পেনাল কোডে রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল।
“জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
এ বিষয়ে আজিজুর রহমান দুলু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার মামলার বিচার পরিচালনায় স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হলে মামলাটা ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে যাবে।
“সেখানে অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার পরে অভিযোগ গঠন হবে। স্পেশাল পিপি হিসেবে মুখ্য দায়িত্ব ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আসামির যেন সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা যায় সেই প্রচেষ্টা থাকবে।”
রামিসা হত্যার ঘটনায় তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রতিবেশী সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আসামি করে মঙ্গলবার পল্লবী থানায় মামলা করেন।
পুলিশ সেদিন বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেন সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির তরফে বলা হয়েছে, আসামিপক্ষকে সমিতির কোনো সদস্য আইনি সেবা দেবে না।