১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রিয়াদে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

আটকে পড়া প্রায় ৫০০ যাত্রীকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 09:42 AM

Updated : 12 Oct 2026, 10:28 AM

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।

স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ হয়।

এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন, আহত হন ৩০৮ জন। আহতদের মধ্যে ২৪ বাংলাদেশি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসাধারী।

এর আগে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাঁদের একজন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের শাহেদ আহম্মেদ।

তিনি রিয়াদের ‘সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির’ জেদ্দা প্রজেক্টে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটিতে দেশে আসার পর তিনি রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন।

অন্যজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের ওমরাহ ভিসাধারী নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তিনি ট্রানজিটে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশিরা

সৌদি দূতাবাসের বরাত দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহত ২৪ বাংলাদেশি রিয়াদের অন্তত ১১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

• কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতাল (আইসিইউ): সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ওমরাহযাত্রী হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ওমরাহযাত্রী কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক। দূতাবাস প্রতিনিধিরা দেখা করে তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন; বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

• ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতাল: অচেতন অবস্থায় ভর্তি আছেন নওগাঁর রাণীনগরের বাসিন্দা সাফফাত রহমান এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের দাউদুল ইসলাম। দুজনই ওমরাহ ভিসায় গিয়ে ট্রানজিটে ছিলেন।

• রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল: চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকার লালবাগের সাইদুল ইসলাম সৌরভ এবং মিরপুরের আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। দুজনই ওমরাহ ভিসায় গিয়ে ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষমাণ ছিলেন।

• প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল: ভর্তি রয়েছেন ঢাকার ডেমরার ওমরাহযাত্রী আব্দুল্লাহ।

• সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল (তাখাসসুসি ব্রাঞ্চ): চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ওমরাহযাত্রী আরমান হোসেন এবং প্রবাসী কর্মী মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক।

• কিংডম হাসপাতাল: ভর্তি আছেন প্রবাসী কর্মী রফিক মিয়া।

• কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি হাসপাতাল: চিকিৎসাধীন আছেন ওমরাহযাত্রী ইসমাইল হোসাইন ও মিসবাহ উদ্দীন হীরক এবং প্রবাসী কর্মী মো. রায়হানুল ইসলাম।

• প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতাল: চিকিৎসাধীন পাঁচ প্রবাসী কর্মী হলেন সালমা আক্তার, শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।

• এস্টার সনদ হাসপাতাল: চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রবাসী কর্মী আসাদুল ইসলাম এবং ওমরাহযাত্রী জামাল।

• সুলাইমান ফকিহ হাসপাতাল: ভর্তি আছেন ওমরাহযাত্রী নাজমা আক্তার।

• সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল (আলসাহাফা ব্রাঞ্চ): চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওমরাহযাত্রী উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল।

আটকে পড়া প্রায় ৫০০ যাত্রীকে সহায়তা

হামলার পর বিমানবন্দর ও অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাস কর্তৃপক্ষ বলছে, ৩ নম্বর টার্মিনালে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স, রিয়াদ এয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে যাওয়া এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগামী ১০০ জন যাত্রীকে রিয়াদের ম্যারিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল ও প্রিন্সেস নূরা ইউনিভার্সিটির ডরমিটরিতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ছাড়া এহরাম পরা ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসযোগে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে।

আর সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের (এসভি-৮০৪) প্রায় ৪০০ জন যাত্রীকে দাম্মাম কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার কথা বলছে দূতাবাস।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাশাপাশি বাহরাইনগামী দুই কর্মীকে স্থলবন্দর দিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

এদিকে রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরে চতুর্থবারের মতো হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনি হুতিরা। হামলায় বিমানবন্দরে আগুন ধরে গেছে।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা বিমান সংস্থা এবং যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করার কয়েক ঘণ্টা পরই এ হামলা হয়।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট রোববার জানিয়েছে, সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শনিবারের হামলা ছাড়াও গত এক সপ্তাহের মধ্যে খালিদ বিমানবন্দর আরও দুবার হামলার শিকার হয়। দুইবারের হামলায় চারজন নিহত ও আরও অনেকে আহত হন। হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে হামলার পর থেকে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী অন্তত আটটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে হামলা ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকা রাজনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে শান্তি ও সংলাপে ফেরার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আরও পড়ুন:

সৌদিতে নিহত দুই বাংলাদেশির একজন বগুড়ার, আরেকজন কুমিল্লার

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩ শতাধিক