০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় ডিসেম্বরে কর্মী পাঠানো শুরুর আশা

বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হলে অভিবাসন ব্যয় সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছেন রিক্রুটিং এজেন্টরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 10:24 PM

Updated : 05 Nov 2026, 10:27 PM

মালয়েশিয়ায় আগামী ডিসেম্বরেই বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, “ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। আমরা চাচ্ছি এই মাসে কর্মীদের যাত্রা শুরু হোক। প্রথম দুই-তিনটা ফ্লাইটে কর্মীরা বিনা খরচে যাত্রা শুরু করুক। পাশাপাশি অন্যান্য চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেও কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

“দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা কর্মীর চাহিদা আনার চেষ্টা করছি। তবে আগেই বলে রাখছি, বিনা খরচে যাত্রা শুরু হবে। এখানে কর্মীর একটি টাকাও লাগবে না। আমি আরও সহজ করে দিয়েছি, আমাদের দেশের সব সার্ভিস চার্জ বাদ দিয়ে দিয়েছি। আমরা চিন্তা করছি অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি দেব। অনলাইনে তারা সাবমিট করবে, এখানে অনলাইনেই লটারি হবে।”

রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে বৃহস্পতিবার বিকালে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো এফডব্লিউসিএমএসে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাতে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে এই কর্মীদের বিনা খরচে পাঠানো হবে। রাতে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে বোয়েসেল।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হলে অভিবাসন ব্যয় সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হতে পারে বলে প্রস্তাব দেন রিক্রুটিং এজেন্টরা।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমি খুব খুশি হয়েছি আপনারা সবাই একমত হয়েছেন যে সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে, দেশবাসী খুশি হবে। আমার মনে হয় আমাদের এদিকে চিন্তাভাবনা করা উচিত।”

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যবসা নির্দিষ্ট কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে সমান সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান আরিফুল হক চৌধুরী।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এছাড়া কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর পর যে কোনো সমস্যা সমাধানে সহায়তা দিতে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে আলাদা সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি তথ্য দেন।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর বেশি অর্থ নেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সভায় কোনো এজেন্সির অবহেলা বা অনিয়মের কারণে যেন গরিব মানুষ সমস্যায় না পড়ে, সেদিকে সতর্ক নজর রাখার নির্দেশ দেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।