Published : 23 Dec 2024, 01:38 AM
প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বড় পরিসরে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে জাতিসংঘের আয়োজনে আগামী বছরের প্রথমার্ধে হতে যাচ্ছে ‘সব অংশীজনের সম্মেলন’।
নিউ ইয়র্কে কিংবা কাতারের দোহায় এই সম্মেলন আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের কর্মকর্তারা।
এ সম্মেলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন ও মিয়ানমারে তাদের পুনঃঅন্তর্ভুক্তির জন্য একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো নির্মাণে ‘রাজনৈতিক ঐকমত্য’ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।
তবে এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন থেকে ভালো ফল বয়ে আনতে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উপর জোর দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আগে থেকে হোমওয়ার্ক না করে এই বড় সম্মেলন করে লাভ নাই। অনুদান সংগ্রহের জন্য হয়ত ঠিক আছে, কিন্তু প্রত্যাবাসনের বিষয়টা বেশ জটিল।
“হোমওয়ার্কগুলো যদি করা যায়, আলাদাভাবে চীনের সাথে, ভারতের সাথে, জাপানের সাথে, আমেরিকার সাথে, সেই ধরনের করার পরে যখন কাজটা একটু অগ্রসর হবে, তখন সম্মেলনে আনা যেতে পারে, যখন এই দেশগুলো সব রাজি থাকবে যে, সম্মেলন করে এটাকে অগ্রসর করা, তখন তা ফলপ্রসূ হবে।”
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলছেন, “এখন গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। যে কাজটা আসিয়ান চেষ্টা করছে, চীনও খানিকটা উদ্যোগের মধ্যে আছে- সেগুলোতে আমরা কোনোভাবে সম্পৃক্ত হতে পারি কি-না।
“সমস্যার রাজনৈতিকভাবে যদি সমাধান হয়, সেটার সঙ্গে আমরা এটাকে জুড়ে দিতে পারি, তবেই আমি একটা সম্ভাব্য সমাধান দেখতে পাই।”

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্টের পর রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে স্রোতের মত ঢুকতে শুরু করে রোহিঙ্গারা।
কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়। যেখানে আগে থেকেই ক্যাম্পে বসবাস করছিল আরও চার লাখ।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ওই বছরের শেষ দিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় মিয়ানমারের অং সান সু চি সরকার। ওই বছর সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতেও তারা সই করে।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে ২০১৯ সালে দুই দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি রোহিঙ্গারা, ফলে ভেস্তে যায় আলোচনা।
এরপর আসে কোভিড মহামারী; রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগেও ঢিল পড়ে। বিশ্বজুড়ে সেই সংকটের মধ্যেই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সু চির সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন সামরিক জান্তা জেনারেল মিন অং হ্লাইং। তাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আসে নতুন ধাক্কা।
এর মধ্যে চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের অংশ হিসাবে কয়েকবার রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এরপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনাতেই কম আসছে।
প্রত্যাবাসনের আলোচনা আপাতত বন্ধ; উল্টো রাখাইনে যুদ্ধের কারণে নতুন করে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। সাম্প্রতিক সময়ে আরও ৮০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের তথ্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

আন্তর্জাতিক সম্মেলন জাতিসংঘের আয়োজনে
গণআন্দোলনে গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বড় পরিসরে সম্পৃক্ত করার কথা বলছে।
এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে ‘সব অংশীজনের সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তাব দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
গত ৭ নভেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা চিঠিতেও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
২০ নভেম্বর সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাবে জাতিসংঘ মহাসচিবকে এ সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত উচ্চ প্রতিনিধি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমানকে।

আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিষয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, “আমরা আশা করছি, এই উচ্চ পর্যায়ের কনফারেন্স-এর দ্বারা রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন ও মিয়ানমারে তাদের পুনঃঅন্তর্ভুক্তির জন্য একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো তৈরিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হবে।
“এই সংকটের মূল কারণ সমাধান এবং বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করার একটা সময়োপযোগী ও সমন্বিত রূপরেখা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
এ সম্মেলনে আর্থ-সামাজিক, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব কমানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
“আমরা আরও আশা করছি, এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধি, সমন্বিত মানবিক ও উন্নয়নমূলক প্রক্রিয়া জোরদার করাসহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা সমর্থন করার বিষয়াবলি উঠে আসবে।”
‘প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে বোঝাপড়া দরকার’
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো সম্মেলন বা উদ্যোগে ‘মিয়ানমারের উপর প্রভাব রাখে’ এমন দেশগুলোর সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরির ওপর জোর দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে বাস্তবিক অর্থে পরিস্থিতিটাকে পরিবর্তন করতে পারে চীন, জাপান, রাশিয়া, ভারত এবং আসিয়ান।
“তাদেরকে আমরা যথেষ্ট পরিমাণে কনভিন্স করতে পারি নাই। যদিও চীন একটা ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনার মধ্যে আছে, কিন্তু সেটার কোনো কাজ আসছে না, তার কারণ চীন যথেষ্ট পরিমাণে ওদেরকে চাপ দিচ্ছে না বা শুধু চীনের চাপে কাজ হচ্ছে না।
“এই জায়গাগুলোতে আমার ধারণা, যথেষ্ট পরিমাণে আমাদের পক্ষে পাইনি। যে কারণে এটার আলোচনা হলেও সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ থামানোর জন্য যেসব উদ্যোগ রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রত্যাবাসন এজেন্ডাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রচেষ্টা চালানার পরামর্শ দেন সাবেক এই কূটনীতিক।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আগে সেখান থেকে কী অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ, সেটা দেশীয় বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ঠিক করার কথাও তিনি বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “এ সম্মেলনটার লক্ষ্য কি প্রত্যাবাসন? যদি তাই হয়, এখনকার পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তো প্রশ্ন তুলবে যে, আপনি আমার কাছে সহায়তা চাইতে আসছেন, এখনকার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আপনি প্রত্যাবাসন কীভাবে করবেন?
“বিষয়টা খুব জটিল। খুব সাবধানে চিন্তাভাবনা করে আমাদেরকে এগোতে হবে। না হয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে আমাদের।”
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর অল্টারনেটিভসের নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, চীন, ভারত, জাপান ও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার ওই পর্যায়ে এখনও বাংলাদেশ যায়নি।
“রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আমি যদ্দুর কথা বললাম, তারাও চিন্তিত যে, এই ধরনের সম্মেলন করলে বরং মিয়ানমার সরকার এটাকে দেখাবে যে, দেখ কী হচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোঝাপড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “আমেরিকায় রিপাবলিকান পার্টি আসছে ক্ষমতায়, তারা যে পদক্ষেপ নেবে, জো বাইডেনের সাথে এটার মিল আছে কি-না, সেটা দেখা দরকার।”
ফিলিস্তিন ও ইউক্রেইন প্রশ্নে ব্যর্থতার পর জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করে এভাবে এগোলে আরও ‘ভুল বার্তা’ দিতে পারে বলেও আশঙ্কা তার।

আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ হতে পারে?
মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা তাতমাদো চলতি বছরের শুরু থেকেই আরাকান আর্মির কাছে পরাজিত হয়ে একের পর এক শহরের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। কয়েকদিন আগে রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল রাখাইন রাজ্যের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আরাকান আর্মির হাতে।
বিদ্রোহীদের একের পর এক জয়ের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের স্বার্থে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের কথা উঠছে বিভিন্ন সময়ে। এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি সরকার।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান বলেন, “আরাকান আর্মির চূড়ান্ত অবস্থা কী হয় তা এখনও অস্পষ্ট।
“তবে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে অন্তত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। তবে গভীরভাবে বিবেচনা না করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।”
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের আয়োজনে মিয়ানমার ও তার প্রতিবেশী পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বৈঠকে ছিলেন মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শোয়ে।মিয়ানমারের সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ওই মতবিনিময়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরানোর ক্ষেত্রে রোডম্যাপ চেয়েছেন শোয়ে। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র বাংলাদেশের স্বার্থের অংশ।

আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা করে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।
তিনি বলেন, “সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির কিছুটা আলোচনা আছে। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়নি। সরকারের বাইরের কিছু কিছু হয়।”
সরকারি পর্যায়ের যাওয়ার আগে, বেসরকারি পর্যায়ে বা এনজিও পর্যায় দিয়ে এমন আলোচনার পথ তৈরির পরামর্শ দেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ।
তিনি বলেন, সরাসরি সরকারি বা রাজনৈতিক পর্যায় দিয়ে শুরু করলে দেখা যাবে যে, ওটাও একটা জায়গায় গিয়ে থেমে যাবে।
এই আলোচনায় সতর্ক থাকার কথাও বলেন ইমতিয়াজ। কারণ হিসেবে বলেন, “যদিও তারা বড় এলাকা দখল করেছে, কিন্তু মহাসড়ক, বিমানবন্দর, সমুদ্র বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো এখনও তাতমাদোর হাতে রয়েছে। যেহেতু ক্রিটিক্যাল এরিয়া তার হাতে, সেহেতু আমাদের আলাপ-আলোচনাও পরিশীলিত হওয়া দরকার।
“আরাকান আর্মি তো এখনও নতুন দেশ করতে চাচ্ছে না। অন্তত এখন পর্যন্ত ঘোষণা করেনি। তারা তাতমাদোর সঙ্গে একটা সময় সমঝোতায় যাবে, যে জায়গায় দখল করেছে সেই এলাকায়।”