Published : 15 Dec 2025, 10:05 PM
বিভিন্ন পক্ষের বিরোধিতার মধ্যেই পাস হওয়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ‘মৌলিক ধারণাগত, কৌশলগত ও কাঠামোগতভাবে গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ’ এবং এটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যকে ধারণ করতে ‘সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ’ বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় টিআইবি বলেছে, “এটি গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি উপহাস, অর্থহীন ও আত্মঘাতী।”
বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ ও পরামর্শ দেওয়া এবং জনসচেতনতামূলক সেমিনার সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখে পুলিশ কমিশন গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হয় গত ৯ ডিসেম্বর। যেখানে অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে।
কমিশনের বাকি ৪ সদস্যের মধ্যে দুজন সাবেক আমলা, একজন অধ্যাপক ও মানবাধিকার রক্ষায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কমিশনে অন্তত দুজন নারী সদস্য রাখার কথা বলা হয়েছে।
টিআইবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জুলাই আন্দোলনে অবর্ণনীয় আত্মত্যাগের বিনিময়ে সামগ্রিক পুলিশ ব্যবস্থা সংস্কারের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, এই অধ্যাদেশ তার সঙ্গে রীতিমতো বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এ অধ্যাদেশ অনুসারে পুলিশ কমিশন গঠিত হলে তা স্বাধীন ও উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম হওয়া দূরে থাক, বাস্তবে তা হবে সরকারের আজ্ঞাবহ অবসরপ্রাপ্ত ও প্রেষণে প্রেরিত প্রশাসনিক ও পুলিশ আমলাদের অব্যাহত কর্তৃত্বচর্চায় জনগণের অর্থের অপচয়কারী আরও একটি প্রকল্প।”
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এ অধ্যাদেশ পুলিশের পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে পুলিশ বাহিনীর ওপর প্রশাসনিক ও পুলিশি আমলাতন্ত্র, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ আরও গভীরতর করবে। এটি স্বাধীন তো হবেই না বরং সরকারের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অপরাধপ্রবণতা ও জবাবদিহিহীনতার বৈধতা দেওয়ার আরও একটি আয়োজন মাত্র হবে।”
তিনি বলেন, “যে পুলিশ কমিশনের জন্য জনগণ ও নাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে, জাতীয় অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক উত্তমচর্চার আলোকে তার অপরিহার্য পূর্বশর্ত হলো সরকারের প্রভাব থেকে কার্যকর স্বাধীনতা। অথচ অধ্যাদেশটিতে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি পর্যন্ত অনুপস্থিত।”
উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য ওঠার আগেই অধ্যাদেশটি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল বিএনপি। ২৮ নভেম্বর বিএনপির এক বিবৃতিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, “বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, তাড়াহুড়া করে দুটি আইন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাস করাতে চাইছেন। একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন, অন্যটি এনজিও সংক্রান্ত আইন।
“আমরা মনে করি, নির্বাচনের আগে এ ধরনের আইন পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।”
বিএনপির বিবৃতিতে বলা হয়, “জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না।
“আমরা মনে করি, এই আইন দুইটি পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে।”