Published : 11 Nov 2025, 08:05 PM
দেশের তরুণদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্পের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনসিসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদের ‘ন্যাশনাল ট্রান্সফরমেশন থ্রু বিএনসিসি’ শীর্ষক উপস্থাপনা শেষে প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপস্থাপনায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদ বিএনসিসির বর্তমান কাঠামো, যুবশক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনা, জাতীয় যুবশক্তি কর্মপরিকল্পনা, জনবল প্রয়োজন, বাজেট, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনসিসির আওতায় ৫৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিএনসিসির শাখা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মসউদ বলেন, “বিএনসিসিতে যোগদানের মূল বয়সসীমা ১৭ থেকে ১৮ বছর। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ লাখ দক্ষ ক্যাডেট তৈরি করা।”
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বিএনসিসির এই রূপকল্পকে দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে গুণগত শিক্ষা ও ভবিষ্যতমুখী পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা সবাই বিএনসিসিকে সমর্থন করি, কিন্তু আমাদের গুণগত মানের দিকে নজর দিতে হবে এবং যোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য প্রশিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রেখে কাজ করতে হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা আত্মমর্যাদা, শৃঙ্খলা ও অন্তর্ভুক্তিকে বিএনসিসির মূল্যবোধ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, “বিএনসিসি আত্মসম্মান ও শৃঙ্খলার প্রতীক। এখানে একটি সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করা উচিত, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য নেটওয়ার্কিং সুযোগ তৈরি করা দরকার।”
সরকারপ্রধান বলেন, “বিএনসিসি শুধু ছেলেদের জন্য নয়; মেয়েদের সমান অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।”
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বিএনসিসিকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমাদের ভাবতে হবে, কোন কোন পরিস্থিতিতে আমরা এই স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে পারি।”
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সাম্প্রতিক জাতীয় ঘটনায় বিএনসিসির অবদানের প্রশংসা করে বলেন, “ভালো প্রশিক্ষক নিয়োগই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। জুলাই আন্দোলনের পর বিএনসিসির ক্যাডেটরা রাস্তায় নেমে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল, এটি ছিল প্রশংসনীয় উদ্যোগ।”
প্রধান উপদেষ্টা বিএনসিসি নেতৃত্বকে তাদের উপস্থাপনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জাতীয় রূপান্তর এজেন্ডায় যুব উন্নয়নকে সংযুক্ত করার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান সভায় উপস্থিত ছিলেন।