Published : 14 Apr 2026, 10:03 PM
বাঙালিয়ানার মিশেলে ঘরোয়া আড্ডা আর ভাব বিনিময়ে বিভিন্ন অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গী করে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
মঙ্গলবার দুপুর গড়াতেই একে একে হাজির হতে থাকেন অতিথিরা, তাদের কারও হাতে ছিল শুভেচ্ছার ফুল ও কেউ সঙ্গে এনেছেন উপহারের ডালি।
আড্ডা-গল্পের ফাঁকে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী খাবার আর মুখরোচক নানা পদের রান্নায় পূর্ণতা পায় আয়োজন।
ঘরোয়া পরিবেশে অতিথিদের আপ্যায়ন করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী এবং তার সহকর্মীরা।
এ আয়োজনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গী হয়েছিলেন রাজনীতিবিদ, বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিনোদনসহ বিভিন্ন অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম এবং বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন যোগ দেন এই বৈশাখী পরবে।



সস্ত্রীক এসেছিলেন ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। এসেছিলেন ঢাকায় আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসাও।
ঘরোয়া আড্ডায় যোগ দেন স্পেন প্রবাসী আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং চিত্রশিল্পী কাজী রকিব ও চিত্রশিল্পী মাসুদা কাজী দম্পতি।
শেষবেলার আকর্ষণ হিসাবে উপস্থিত হন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি, ক্রিকেটার তামিম ইকবাল।
বৈশাখী আয়োজনে সবার আগে এসেছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও মীর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাসির হোসেন। অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ‘আর্লি বার্ড’ হয়ে আসার কথা বলছিলেন তিনি।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), এডিএন গ্রুপের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ, হাসান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইমুল হাসানও এসেছিলেন আয়োজনে।
আয়োজনে অংশ নেন স্পেন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত শাহেদ আখতার, সাবেক মুখ্য সচিব আবদুল করিম এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম।




এসেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া মুক্তিযুদ্ধ বন্ধু জুলিয়ান ফ্রান্সিস, সাবেক সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান চৌধুরী (মঞ্জু)।
পারিবারিক ব্যস্ততার মাঝেও বাঙালিয়ানার এই আয়োজনে হাজির হন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান ও কবি শামীম আজাদ দম্পতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী ও প্রাভা হেলথের চিফ অপারেটিং অফিসার ডা. সিমীন এম আখতারও এসেছিলেন।
কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হকও অতিথি হয়ে এসেছিলেন বৈশাখ বরণে।
মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমতিয়াজ ইউ আহমেদ, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলামও এসেছিলেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন।




আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, সাংবাদিক কামাল আহমেদ, মাসুদ কামাল, এহসানুল হক বাবু, মশিউর রহমান টিপু এবং কলামিস্ট তৌহিদ ফিরোজও যোগ দেন অনুষ্ঠানে।
বরাবরের মতই বৈশাখের এ আয়োজনে ছিলেন অভিনয়শিল্পী দম্পতি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও জয়শ্রী কর জয়া।
অভিনয়শিল্পী স্ত্রী নিমা রহমান ও পুত্র আরিক আনাম খানকে সঙ্গে নিয়ে সপরিবারে আয়োজনে আসেন অভিনয়শিল্পী তারিক আনাম খান।
বৈশাখি আয়োজনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গী হন স্থপতি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এনামুল করিম নির্ঝর এবং অভিনয়শিল্পী অপি করিম দম্পতি। অভিনয়শিল্পী আহসান হাবীব নাসিম ও অভিনয়শিল্পী রওনক হাসানও উপস্থিত হন।
সাড়ে ১৬ বছর পর চাকরি ফেরত পেয়ে অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়াও শামিল হন এ অনুষ্ঠানে।



লেখক ও গবেষক সালেক খোকন, বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশেনের জেনারেল সেক্রেটারি জিকরুল আহসান, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্ট’ (আইসিআইএমওডি) পুরস্কার জয়ী উদ্যোক্তা মোস্তফা শিবলীও অংশ নেন আয়োজনে।
বিশ্বরঙ-এর স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা, ইউনিলিভারের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার, কাফকোর উপ মহা ব্যবস্থাপক সৈয়দ সাফায়াত আমীর এবং নগদের কমিউনিকেশনস প্রধান সজল জাহিদও এসেছিলেন বাঙালিয়ানার এই উৎসবে।
গ্রীষ্মের এই গরমে কাঁচা আম ও লেবুর শরবৎ, তেঁতুলের শরবত আর ডাবের পানি দিয়ে শুরু হয় অতিথি আপ্যায়ন পর্ব। খই, বাতাসা, নাড়ুর মত বৈশাখী অনুষঙ্গও স্থান পায় আপ্যায়নে। সিঙ্গারা, ডালপুরি আর চটপটির মত মুখরোচক খাবার তো ছিলই।




পান্তা ভাত, সাদা ভাত, ভূনা খিঁচুড়ি, লাল চালের ভাত, সরষে ইলিশ, ভাঁপা ইলিশ, ইলিশ ভাজা, লইট্যা শুঁটকি ভুনা, বেগুন দিয়ে শুঁটকি ভূনা, লাল আলু ভর্তা, টাকি ভর্তা, চিংড়ি ভর্তা, বেগুন ভর্তা, কালজিরা ভর্তা, টমোটো ভর্তা, ডিম ভর্তা, ডাল ভর্তা, মাছের চচ্চড়ি, চিংড়ি করল্লা, খাসির রেজালা, আচারি গরুর গোস্ত, রুই ভুনা, মুরগি ভুনা, ইলিশ মাছের মাথার সঙ্গে কচুর লতি এবং সালাদ ছিল রসনা বিলাসে।
ডেজার্টে ছিল সিরাজগঞ্জের ছানার জিলাপি, বরিশালের রসগোল্লা, টাঙ্গাইলের চমচম, পায়েস, বরিশালের রসমালাই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী, যশোরের নলেন গুড়ের প্যাড়া সন্দেশ ও সাদেক গোল্লা।