Published : 27 Aug 2025, 09:14 PM
দাবিদাওয়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদুনে গ্যাস আর জলকামানের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, “পুলিশ তাদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করে, টিয়ারগ্যাস ছুড়ে মারে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।”
বুধবার পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনার পর শাহবাগে অবস্থান নেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় সেখানে তাদের সঙ্গে দেখা করতে যান উপাচার্য বোরহান।
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ করে তিনি জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলে ধরেন।

উপাচার্য বলেন, “আমাদের বেশ কিছু শিক্ষার্থী টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন। এ শিক্ষার্থীদের যতটুকু সম্ভব অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেছি। তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।”
বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরীসহ শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরারের সঙ্গে মঙ্গলবার দেখা করেছেন বলে জানান উপাচার্য। বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপাচার্য কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ তুলতেই শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ দুয়োধ্বনি দেন।
তখন উপাচার্য বলেন, “আমার শিক্ষার্থীরা যদি আমাকেই ভুয়া বলেন তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কমিটির ব্যাপারে কোনো ধরনের বক্তব্য যদি থাকে…। এ মুহূর্তে দুইজন উপদেষ্টা রেলভবনে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের আমরা অনুরোধ করেছি যাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যথাযথভাবে বসে এটা সমাধানের ব্যবস্থা নেন ও যারা আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে তাদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করেন।”

তিন দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। এগুলো হল-
• নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ ও ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা।
• দশম গ্রেডে শুধু ডিপ্লোমাধারীরা আবেদন করতে পারে। সেখানে যেন উচ্চ ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা।
• শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং যারা সম্পন্ন করবে তারাই যেন প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) লিখতে পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
এ দাবিদাওয়া নিয়ে কয়েকদিন ধরে কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখার পর ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে তারা সড়ক ছাড়েন।

এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বেলা ১১টার দিকে বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টার দিকে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যুমনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। পথে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সামনে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এরপর সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদুনে গ্যাস আর জলকামান ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এরপর বিকাল সাড়ে ৫টায় ব্রিফিংয়ে পুলিশের হামলার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ক্ষমা চাওয়াসহ পাঁচ দাবিতে শাহবাগে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন-
যমুনা অভিমুখে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মিছিল, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ