Published : 16 Jul 2024, 09:57 PM
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে হতাহতের ঘটনার দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন দেশের ৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
মঙ্গলবার বিবৃতিতে তারা কোটা সংস্কার নিয়ে জরুরিভাবে আলোচনা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যাপক ড. অনুপম সেন, সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, নির্মলেন্দু গুণ, সুজেয় শ্যাম, ডা. সারওয়ার আলী, আবেদ খান, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সাজ্জাদ আলী বীর প্রতীক, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, খুশি কবীর, হারুন হাবীব, অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, অধ্যাপক শফি আহমেদ, অধ্যাপক আবদুস সেলিম, অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী, ম. হামিদ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, গোলাম কুদ্দুছ, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, শ্যামল দত্ত, অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, লাকী ইনাম, সারা যাকের, শিমুল ইউসুফ, সঞ্জীব দ্রং, আহকাম উল্লাহ।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে ছাত্র সমাজ ও সরকারের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে অভিন্ন মত রয়েছে। হাই কোর্টের রায়েও সরকারকে প্রয়োজনীয় সংস্কারসাধনে অধিকার প্রদান করা হয়েছে। সংস্কারের বিভিন্ন দিক বিচার-বিবেচনা ও আলোচনা এই মুহূর্তে বিশেষ জরুরি।
“পারস্পরিক মতামত গ্রহণ ও মতবিনিময় প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ সাপেক্ষে চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই। এক্ষেত্রে প্রতিবাদী ছাত্রসমাজের দিক থেকে সুচিন্তিত সংস্কার প্রস্তাবনা যেমন আমরা কামনা করব, তেমনি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞজনের পরামর্শেরও আমরা প্রত্যাশী।”
সরকার ও আন্দোলনরত ছাত্রসমাজ কেউ কারো প্রতিপক্ষ নয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এর সৃজনশীল বাস্তবায়নের অনেক উদাহরণ তারা তৈরি করেছে। ক্ষুব্ধ পরিবেশে এর ব্যত্যয় যারা ঘটায় তারা ছাত্রসমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করে না।
“কোটা সংস্কারের পক্ষে আদালতের অভিমত ও জাতীয় ঐকমত্য সবাই মিলে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়া সম্ভব বলে আমরা মনে করি। এই লক্ষ্যে সকলের উদ্যোগী ও সহনশীল ভূমিকা এবং অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ আমরা প্রত্যাশা করি।”
১০টি সাংস্কৃতিক ফেডারেশনের নিন্দা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ‘আমরা সবাই রাজাকার’ স্লোগানের নিন্দা জানিয়ে পৃথকভাবে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ১০টি সাংস্কৃতিক ফেডারেশন।
রোববার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ ও ‘আমরা সবাই রাজাকার’ বলে যে স্লোগান দিয়েছে তাতে পুরো জাতি ‘বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ’ বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মো. আহ্কাম উল্লাহ্ বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন।
বিবৃতিদাতা সংগঠনের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, বাংলাদেশ যাত্রা শিল্প উন্নয়ন পরিষদ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, “মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের ‘রাজাকার’ উল্লেখ করে স্লোগান দেয় তখন মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী-শিশুসহ সবার প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা করা হয়। অথচ এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর রাজাকাররা শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নিরীহ মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ ও নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিল।’”
শিক্ষার্থীরা তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দাবি আদায়ের পথে চলবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তারা।