Published : 18 Jun 2026, 05:48 PM
পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি ‘সরানোটা আরও আগেই দরকার ছিল’ বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু উন্মুক্ত হওয়ার পরই মাটিগুলো ‘সরানো উচিত ছিল’, কিন্তু তখন সরানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ মন্ত্রী এ কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মাটিকাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে গাছ লাগানো হবে।
তবে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুর যে জায়গাটা আমি জেনেছি...যখন কোনো মেগা স্ট্রাকচার করবেন, স্ট্রাকচারের কাজ করার জন্য কোনো কোনো সময় একটু আপনার, ওটাকে বলা হয় ভেহিক্যাল চলাচল, স্ট্রাকচারটাকে দাঁড় করানোর জন্য অথবা ধরেন, বিল্ড করার জন্য কিছু নিচে কিছু সাপোর্টিং লাগে। যেখানেই সেতু হবে আপনি দেখে নেবেন, যে দুই পাড়ে কিছু জায়গায় একটু বাঁধের মতো করা হয়।
“সেখান থেকে সেতুর কাজ করা হয়। কাজ করে সেটা আবার অপসারণ করে দেওয়া হয়। আবার চলাচলটা সহজ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ কিছু কৃত্রিম ব্যবস্থা করতে হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর আবার সেটা অপসারণ করতে হয়। এর জন্য চুক্তিও থাকে এবং ওর জন্য বরাদ্দও থাকে।”
মন্ত্রী বলেন, “এখানে ওই রকমভাবে কিছু রাস্তা সাময়িকভাবে, কিছু চলাচলের জায়গা, কিছুটা আর্থ ফিলিং, কিছুটা শাটার এস্টাবলিশড করা—এজন্য প্রয়োজন ছিল, তখন কিন্তু এটা ভরাট করা হয়েছে। সেতুটা নির্মাণ হওয়ার পর ওটা কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে চুক্তিই থাকে এটা অপসারণ করতে হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে এটা অপসারণ হয়নি। ব্যর্থতা ওই জায়গায়, যে কন্ট্রাক্টরের ওটা সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল তিনি সরাননি। সরাননি বিধায় তিনি বিলও পাননি।
“এটা কিন্তু চুক্তিরই অংশ, সেগুলো সরিয়ে নিতে হবে। এই যে মাটিটা ফিলাপ করা হয়েছিল ওই জায়গায়, সেটা ওখানে থাকবে না। থাকলে যেটা হয়, সম্ভাব্যতা যাচাই যেভাবে হয়েছে, তার সঙ্গে ওই কাঠামোর মিল আর থাকছে না। সেটা হয়তো দেখা গেল যে, পানি চলাচল, অন্যান্য চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।”
শেখ রবিউল বলেন, “এখন সরানোর প্রয়োজন হয়েছে, তাকে (ঠিকাদার) শর্ত দেওয়া হয়েছে তুমি এটা সরাও। সরাতে গিয়ে এখন ওই আর্টিফিসিয়ালি মাটি এখন মনে হচ্ছে সাবেক মাটি। কারণ কম্প্যাক্ট হয়ে গেছে, দুর্বা ঘাস হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এত একটা মাঠ! এত আর্টিফিসিয়ালি কোনো ভরাট করা জিনিস না, তাহলে কেন এখান থেকে মাটিটা কাটা হচ্ছে?
“দেখে মনে হচ্ছে পিলারের গোড়ায় গর্ত হয়ে যাচ্ছে, এই পিলারের সঙ্গে এই স্ট্রাকচারের সঙ্গে ওই মাটির কোনো সম্পর্ক নেই। এখন মানুষের ধারণা-পিলারের নিচে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে, পিলার তো পড়ে যাবে, পিলারের তো সমস্যা হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং ভাষায় এটা না।”
সেতুমন্ত্রী বলেন, “আলটিমেটলি, এই ধারণাটা হওয়ার একটাই কারণ হচ্ছে, মাটিগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পরই সরানো উচিত ছিল। কিন্তু সেটা সরানো হয়নি। এখন সরানো হচ্ছে বিধায় এটা আমরা ওই কাজের সঙ্গে সিমিলার মনে করছি না। মনে করছি, ভিন্ন কিছু করে মাটি বিক্রি করে কেউ হয়তো পরোক্ষভাবে লাভবান হচ্ছে।”